শনিবার

২৩ মে, ২০২৬ ৮ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩

১/১১-এর বিচার: সেনা কর্মকর্তারা গ্রেপ্তার, সু-শীলরা ধরাছোঁয়ার বাইরে

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২২ মে, ২০২৬ ১২:৪৬

শেয়ার

১/১১-এর বিচার: সেনা কর্মকর্তারা গ্রেপ্তার, সু-শীলরা ধরাছোঁয়ার বাইরে
ছবি সংগৃহীত

২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারির সেনা-সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রতিষ্ঠার ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে সাবেক তিন সামরিক কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করা হলেও সেই সরকারের পক্ষে জনমত গঠনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন বলে অভিযুক্ত দুই শীর্ষ সংবাদপত্র সম্পাদকের বিরুদ্ধে এখনো কোনো আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। এ নিয়ে রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।

সংশ্লিষ্ট আইন প্রয়োগকারী সংস্থা সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি গ্রেপ্তার হওয়া অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী, শেখ মামুন খালেদ এবং প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের সাবেক প্রধান মেজর জেনারেল মো. আফজাল নাছেরকে রিমান্ডে নিয়ে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। জেরার মুখে তারা তৎকালীন সেনাপ্রধান মইন উ আহমেদসহ এক-এগারো সরকারের নেপথ্যে থাকা সু-শীল সমাজের বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তির নাম প্রকাশ করেছেন বলে সূত্র জানায়। দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদে কীভাবে মাইনাস ফর্মুলা বাস্তবায়ন এবং বিরাজনীতিকরণের পরিকল্পনা করা হয়েছিল, সে বিষয়েও তথ্য উঠে এসেছে।

এই প্রেক্ষাপটে প্রথম আলোর সম্পাদক মতিউর রহমান এবং ডেইলি স্টারের সম্পাদক মাহফুজ আনামের নাম আলোচনায় আসে। অভিযোগ রয়েছে, ২০০৭ সালে এই দুই সম্পাদক তাদের সংবাদপত্রে সম্পাদকীয় ও প্রতিবেদনের মাধ্যমে মাইনাস ফর্মুলার তাত্ত্বিক ভিত্তি তৈরি করেছিলেন এবং শীর্ষ রাজনৈতিক নেতাদের বিরুদ্ধে মিডিয়া ট্রায়ালে অংশ নিয়েছিলেন। তবে তাদের বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত কোনো গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়নি এবং তারা ঢাকায় স্বাভাবিকভাবেই অবস্থান করছেন।

বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চসহ একাধিক রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠন এই দুই সম্পাদককে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়ে আসছে। এসব সংগঠনের পক্ষ থেকে বলা হয়, ২০০৭ সালে দেশের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোকে দুর্বল করতে এবং শীর্ষ নেতাদের রাজনীতি থেকে সরিয়ে দিতে এই দুই সম্পাদক তাদের মিডিয়া প্রতিষ্ঠানকে ব্যবহার করেছিলেন।

সাবেক সেনা কর্মকর্তাদের একটি অংশ প্রশ্ন তুলেছেন, এক-এগারো সৃষ্টির দায়ে সামরিক বাহিনীর সদস্যদের বিচারের আওতায় আনা হলে বেসামরিক সু-শীল ব্যক্তিরা কেন বিচারের বাইরে থাকবেন। রাজনীতি বিশ্লেষকরাও মনে করেন, এই অসাংবিধানিক শাসনব্যবস্থার পূর্ণাঙ্গ জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হলে যে সু-শীল সমাজ ও মিডিয়া ব্যক্তিত্বরা সেই সরকারের পক্ষে জনমত তৈরি করেছিলেন, তাদেরও বিচারের মুখোমুখি করা প্রয়োজন।

উল্লেখ্য, ২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি রাজনৈতিক অস্থিরতার পটভূমিতে সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার ক্ষমতা গ্রহণ করে। তৎকালীন সেনাপ্রধান মইন উ আহমেদ এবং প্রধান উপদেষ্টা ড. ফখরুদ্দীন আহমদের নেতৃত্বে ওই সরকার প্রায় দুই বছর ক্ষমতায় ছিল। ওই সময় বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার জ্যেষ্ঠ পুত্র তারেক রহমান ও কনিষ্ঠ পুত্র আরাফাত রহমানসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়। মতিউর রহমান ও মাহফুজ আনামের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।



banner close
banner close