দেশের ই-পাসপোর্টে পুনরায় ‘ইসরায়েল ব্যতীত’ শব্দবন্ধ যুক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে পাসপোর্টের ভেতরের জলছাপে থাকা কয়েকটি স্থাপনা ও প্রতীক বাদ দিয়ে নতুন কিছু ছবি সংযোজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে সরকার গঠনের পর এ বিষয়ে কার্যক্রম শুরু হয় এবং এপ্রিল ও মে মাসে একাধিক বৈঠকে প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, ২০২০ সালে ই-পাসপোর্ট চালুর সময় আওয়ামী লীগ সরকার পাসপোর্ট থেকে ‘ইসরায়েল ব্যতীত’ শব্দবন্ধ বাদ দেয়। এর আগে বাংলাদেশি পাসপোর্টে উল্লেখ ছিল, এই পাসপোর্ট ইসরায়েল ছাড়া বিশ্বের সব দেশের জন্য বৈধ। সে সময় বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন মহলে সমালোচনা ও আলোচনা তৈরি হয়।
আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর গত বছরের ৭ এপ্রিল অন্তর্বর্তী সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পাসপোর্ট অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে শব্দবন্ধটি পুনর্বহালের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে চিঠি দেয়। তবে সিদ্ধান্তটি সীমিত পরিসরে কার্যকর হয়। বর্তমানে সরকার সব ধরনের পাসপোর্টে এটি কার্যকর করার উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানা গেছে।
ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ধাপে ধাপে নতুন সংস্করণের পাসপোর্টে ‘ইসরায়েল ব্যতীত’ শব্দবন্ধ যুক্ত করা হবে। বর্তমানে যাদের পাসপোর্ট রয়েছে, তাদের জন্য কোনো জটিলতা তৈরি হবে না। মেয়াদ শেষে নবায়নের সময় তারা নতুন সংস্করণের পাসপোর্ট পাবেন।
এদিকে ই-পাসপোর্টের প্রতিটি পাতায় থাকা জলছাপেও পরিবর্তন আনা হচ্ছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, নতুন সংস্করণ থেকে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিসৌধ, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে স্বাধীনতার স্তম্ভ, মডেল মসজিদ, বঙ্গবন্ধু সেতু, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নভোথিয়েটার, বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট, পদ্মা সেতু, মেট্রোরেল, নৌকাসহ কক্সবাজার সমুদ্রসৈকত, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, দিনাজপুরের কান্তজিউ মন্দির এবং মুজিবনগর স্মৃতিসৌধের ছবি বাদ দেওয়া হচ্ছে।
নতুন করে যুক্ত হচ্ছে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় রংপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদের দুই হাত প্রসারিত করে দাঁড়িয়ে থাকা ছবি। এছাড়া বঙ্গভবন, জামদানি শাড়ি, জাতীয় ফল কাঁঠাল, জাতীয় মাছ ইলিশ, টাঙ্গুয়ার হাওর, কক্সবাজার সমুদ্রসৈকত, মাধবকুণ্ড জলপ্রপাত, আহসান মঞ্জিল, শালবন বিহার, নীলগিরি পর্বত, রাজশাহীর আমবাগান, জাতীয় স্মৃতিসৌধ এবং পানামনগরীর ছবি যুক্ত করা হচ্ছে।
তবে পাসপোর্টের আগের কিছু জলছাপ বহাল থাকছে। এর মধ্যে রয়েছে জাতীয় ফুল শাপলা, রয়েল বেঙ্গল টাইগার, জাতীয় পাখি দোয়েল, শহীদ মিনার, সুপ্রিম কোর্ট, শিখা অনির্বাণ, লালবাগ কেল্লা, হাতিরঝিল, বায়তুল মোকাররম মসজিদ, কার্জন হল, ষাটগম্বুজ মসজিদ, পাট, চা-বাগান, সুন্দরবন এবং শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিনের ‘সংগ্রাম’ চিত্রকর্ম।
স্বরাষ্ট্রসচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী বলেন, পাসপোর্টের ভেতরে থাকা কয়েকটি জলছাপ বাদ দিয়ে নতুন কিছু ছবি যুক্ত করার কাজ চলছে। শিগগিরই এ বিষয়ে সরকারপ্রধানের অনুমোদন পাওয়া যাবে।
আরও পড়ুন:








