বৃহস্পতিবার

২১ মে, ২০২৬ ৭ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩

কলকাতায় শুরু হচ্ছে বাংলাদেশ-ভারত যৌথ নদী কমিশনের ৯০তম বৈঠক

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২১ মে, ২০২৬ ১২:১৪

শেয়ার

কলকাতায় শুরু হচ্ছে বাংলাদেশ-ভারত যৌথ নদী কমিশনের ৯০তম বৈঠক
ছবি সংগৃহীত

পশ্চিমবঙ্গের কলকাতায় আজ বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হচ্ছে বাংলাদেশ-ভারত যৌথ নদী কমিশনের (জেআরসি) ৯০তম বৈঠক। তিন দিনব্যাপী এ বৈঠক আগামী শনিবার পর্যন্ত চলবে। গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তির পুনর্নবীকরণসহ অভিন্ন নদীগুলোর পানি ব্যবস্থাপনা এবার আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।

বুধবার বৈঠকে অংশ নিতে বাংলাদেশের ছয় সদস্যের প্রতিনিধি দল কলকাতায় পৌঁছায়। বাংলাদেশের পক্ষে প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন যৌথ নদী কমিশনের সদস্য মোহাম্মদ আনোয়ার কবির। প্রতিনিধি দলে আরও রয়েছেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাউথ এশিয়া উইংয়ের পরিচালক মোহাম্মদ বাকি বিল্লাহ।

এছাড়া আলোচনায় অংশ নিচ্ছেন বাংলাদেশের দুই কূটনীতিক মোহাম্মদ আলমগীর হোসেন এবং দিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশনের কাউন্সেলর (পলিটিক্যাল) ও কলকাতায় বাংলাদেশের উপ-হাইকমিশনের সেকেন্ড সেক্রেটারি (পলিটিক্যাল) মোহাম্মদ ওমর ফারুক আকন্দ।

ভারতের পক্ষে প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন দেশটির কেন্দ্রীয় জলসম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের এক যুগ্ম সচিব। এছাড়া পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সেচ দপ্তরের একজন চিফ ইঞ্জিনিয়ারও বৈঠকে অংশ নিচ্ছেন।

জানা গেছে, ১৯৯৬ সালে স্বাক্ষরিত গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তির মেয়াদ আগামী ৩১ ডিসেম্বর শেষ হবে। মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে এটিই দুই দেশের যৌথ নদী কমিশনের শেষ বৈঠক হওয়ায় আলোচনা বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।

বৈঠকের অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার বাংলাদেশের প্রতিনিধি দল মুর্শিদাবাদ সফর করবে। সেখানে তারা ফারাক্কা এলাকায় গিয়ে গঙ্গা নদীর পানিপ্রবাহ পরিমাপ করবেন। পরে শুক্রবার তারা কলকাতায় ফিরে আসবেন। শুক্র ও শনিবার কলকাতার একটি অভিজাত হোটেলে আনুষ্ঠানিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।

উল্লেখ্য, ১৯৯৬ সালের ১২ ডিসেম্বর বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ৩০ বছর মেয়াদি গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তি অনুযায়ী, জানুয়ারি থেকে মে পর্যন্ত শুষ্ক মৌসুমে দুই দেশের মধ্যে নির্দিষ্ট অনুপাতে পানি বণ্টনের বিধান রয়েছে।

চুক্তিতে বলা হয়েছে, গঙ্গায় পানির প্রবাহ ৭৫ হাজার কিউসেকের বেশি হলে ভারত পাবে ৪০ হাজার কিউসেক এবং অবশিষ্ট পানি পাবে বাংলাদেশ। প্রবাহ ৭০ হাজার থেকে ৭৫ হাজার কিউসেকের মধ্যে থাকলে বাংলাদেশ পাবে ৪০ হাজার কিউসেক এবং বাকি অংশ পাবে ভারত। আর প্রবাহ ৭০ হাজার কিউসেক বা তার কম হলে দুই দেশ সমানভাবে পানি ভাগ করে নেবে।



banner close
banner close