বুধবার

২০ মে, ২০২৬ ৬ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩

সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় বিলুপ্তি: সরকারের কঠোর সমালোচনায় জামায়াত আমীর

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২০ মে, ২০২৬ ১৬:১০

শেয়ার

সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় বিলুপ্তি: সরকারের কঠোর সমালোচনায় জামায়াত আমীর
ছবি: সংগৃহীত

সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় বিলুপ্তির ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, “স্বাধীন বিচার বিভাগীয় সচিবালয়ের অপমৃত্যু ঘটানো হয়েছে।”

বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেয়া এক পোস্টে তিনি এ মন্তব্য করেন।

ফেসবুক পোস্টে জামায়াত আমীর লিখেছেন, “স্বাধীন বিচার বিভাগীয় সচিবালয়ের অপমৃত্যু! আর তা ঘটানো হয়েছে কেবল গতকালই।”

তিনি আরও লিখেন, “বার্তা স্পষ্ট— বিচারের ওপর রাজনৈতিক প্রভাব ও কর্তৃত্ব নিরঙ্কুশভাবে প্রতিষ্ঠা করা। অথচ এই সরকারই বিচার বিভাগকে পূর্ণ স্বাধীনতা ও শক্তিশালী করার প্রত্যয় ঘোষণা করেছিল। বিধিবাম!”

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “এই অপসংস্কৃতিকে ঘৃণা করি। এর পরিবর্তন একদিন এই বাংলার মাটিতেই হবে, ইনশাআল্লাহ।”

এর আগে মঙ্গলবার আইন মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগ থেকে রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে ‘সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়’ বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়। একই সঙ্গে সচিবালয়ে কর্মরত সিনিয়র সচিবসহ ১৫ জন কর্মকর্তাকে আইন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে।

সরকারি সূত্র জানায়, সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়ের কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে বন্ধ করে এর প্রশাসনিক কার্যাবলি পুনরায় আইন মন্ত্রণালয়ের অধীনে নেয়া হয়েছে। এ সিদ্ধান্তের পর থেকেই বিচার বিভাগ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মহলে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।

উল্লেখ্য, নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচার বিভাগকে কার্যকরভাবে পৃথক করার উদ্যোগের অংশ হিসেবে অন্তর্বর্তী সরকার ‘সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ-২০২৫’ জারি করেছিল। ওই অধ্যাদেশের আওতায় বিচার বিভাগের প্রশাসনিক কার্যক্রম স্বাধীন কাঠামোয় পরিচালনার উদ্যোগ নেয়া হয়।

তবে পরবর্তীতে সরকার অধ্যাদেশটি বাতিল করে এবং নতুন প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে সচিবালয়ের কার্যক্রম বিলুপ্ত ঘোষণা করে।

এদিকে আইনজীবী ও বিচার বিভাগসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মহলের অনেকে মনে করছেন, বিচার বিভাগের প্রশাসনিক স্বাধীনতা ও কার্যকর স্বায়ত্তশাসনের প্রশ্নে এ সিদ্ধান্ত নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। অন্যদিকে সরকারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক বিস্তারিত ব্যাখ্যা এখনো দেয়া হয়নি।



banner close
banner close