বুধবার

২০ মে, ২০২৬ ৬ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩

তিন ধাপে বাস্তবায়নের পথে নবম পে-স্কেল, সুপারিশ চূড়ান্ত কাল

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২০ মে, ২০২৬ ০৬:৩৮

শেয়ার

তিন ধাপে বাস্তবায়নের পথে নবম পে-স্কেল, সুপারিশ চূড়ান্ত কাল
ছবি সংগৃহীত

সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নবম জাতীয় পে-স্কেল বাস্তবায়নে চূড়ান্ত সুপারিশ বৃহস্পতিবার দেওয়া হতে পারে। নতুন বেতন কাঠামো একবারে কার্যকর না করে তিন অর্থবছরে শতভাগ বাস্তবায়নের পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। আগামী ১ জুলাই থেকে এর প্রথম ধাপ কার্যকরের প্রস্তুতি চলছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান-এর নির্দেশনায় মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি-র নেতৃত্বাধীন পুনর্গঠিত কমিটি বৃহস্পতিবার সুপারিশ চূড়ান্ত করবে। পরে তা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো হবে। অনুমোদন মিললে অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে।

অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম দিন থেকে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বিদ্যমান মূল বেতনের ওপর অতিরিক্ত ৫০ শতাংশ সমন্বিত বেতন পাবেন। পরবর্তী অর্থবছরে আরও ৫০ শতাংশ সমন্বয় যোগ হবে। এভাবে দুই বছরের মধ্যে মূল বেতনের পূর্ণ সমন্বয় সম্পন্ন হবে।

তবে বাড়িভাড়া, চিকিৎসা, যাতায়াত, ঝুঁকি ভাতা, বিশেষ প্রণোদনা ও অন্যান্য আর্থিক সুবিধা একযোগে কার্যকর করা হচ্ছে না। এসব সুবিধা ২০২৮-২৯ অর্থবছরে কার্যকর করার সুপারিশ করা হতে পারে। এজন্য আসন্ন বাজেটে ৩০ হাজার কোটি টাকার বেশি বরাদ্দ রাখার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানিয়েছেন, একসঙ্গে সব সুবিধা চালু করলে সরকারের ওপর বড় ধরনের আর্থিক চাপ তৈরি হতে পারে। তাই রাজস্ব পরিস্থিতি ও বাজেট সক্ষমতা বিবেচনায় ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের কৌশল নেওয়া হয়েছে।

পুনর্গঠিত কমিটি ইতোমধ্যে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও আর্থিক সংশ্লিষ্ট সংস্থার মতামত পর্যালোচনা করেছে। কমিটির একাধিক সূত্র জানিয়েছে, বর্তমান মূল্যস্ফীতি, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, সরকারি কর্মচারীদের আর্থিক সক্ষমতা এবং সরকারের রাজস্ব আহরণের সক্ষমতা বিবেচনায় নিয়ে এই পরিকল্পনা করা হয়েছে।

সাবেক অর্থ সচিব মাহবুব আহমেদ বলেন, কয়েক ধাপে বেতন বৃদ্ধির কৌশল বাস্তবসম্মত। গত কয়েক বছরে মূল্যস্ফীতি বাড়লেও সরকারি চাকরিজীবীদের ইনক্রিমেন্ট সে অনুপাতে হয়নি। ফলে তাদের জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়েছে। একই সঙ্গে বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক চাপের কারণে একবারে বড় আকারে বেতন-ভাতা বৃদ্ধি করা সরকারের জন্য কঠিন।

অর্থনৈতিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশ-এর চেয়ারম্যান এম মাসরুর রিয়াজ বলেন, মূল্যস্ফীতির বাস্তবতা বিবেচনায় নবম পে-স্কেল যৌক্তিক হলেও সরকারের আর্থিক সক্ষমতার দিক বিবেচনায় তিন ধাপে বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত কৌশলী পদক্ষেপ।

জানা গেছে, নবম পে-স্কেলের আওতায় প্রশাসন ক্যাডারের পাশাপাশি শিক্ষক, পুলিশ, স্বাস্থ্যকর্মী, মাঠ প্রশাসন, বিচার বিভাগীয় কর্মচারীসহ সব সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী অন্তর্ভুক্ত থাকবেন। স্বায়ত্তশাসিত ও আধা-স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের ক্ষেত্রেও সমন্বিত নির্দেশনা থাকতে পারে।

কমিটির এক কর্মকর্তা জানান, নিম্ন ও মধ্যম স্তরের কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধির হার তুলনামূলক বেশি রাখার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। কারণ মূল্যস্ফীতির চাপ সবচেয়ে বেশি পড়ছে নিম্ন আয়ের কর্মচারীদের ওপর। একই সঙ্গে বিভিন্ন গ্রেডের মধ্যে বিদ্যমান বৈষম্য কমিয়ে আনার সুপারিশও থাকতে পারে।

এদিকে পেনশনভোগীদের সুবিধা বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা চলছে। সাবেক সচিব জাকির আহমেদ খান-এর নেতৃত্বাধীন বেতন কমিশন পেনশন বৃদ্ধির সুপারিশ করেছে। সুপারিশ অনুযায়ী, মাসে ২০ হাজার টাকার কম পেনশন পাওয়া ব্যক্তিদের পেনশন ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে। ২০ থেকে ৪০ হাজার টাকা পেনশন পাওয়া ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এ হার ৭৫ শতাংশ এবং ৪০ হাজার টাকার বেশি পেনশনভোগীদের ক্ষেত্রে প্রায় ৫৫ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধির প্রস্তাব রয়েছে। আগামী অর্থবছরে এ সুবিধা কতটুকু কার্যকর করা হবে, তা এখনও চূড়ান্ত হয়নি।



banner close
banner close