মঙ্গলবার

১৯ মে, ২০২৬ ৫ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩

জুলাই অভ্যুত্থানে হত্যার পর লাশ গুম, আসামিদের জামিন নামঞ্জুর

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৯ মে, ২০২৬ ২২:৪৩

শেয়ার

জুলাই অভ্যুত্থানে হত্যার পর লাশ গুম, আসামিদের জামিন নামঞ্জুর
ছবি: সংগৃহীত

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় কলেজছাত্র হৃদয় হোসেনকে হত্যার পর লাশ গুমের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় গাজীপুরের কোনাবাড়ি থানার সাবেক ওসি কেএম আশরাফ উদ্দিনসহ দুজনকে জামিন দেননি ট্রাইব্যুনাল।

মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের বিচারিক প্যানেলে এ বিষয়ে শুনানি হয়।

জামিন চাওয়া অপরজন হলেন গাজীপুর জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) পরিদর্শক মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম।

আশরাফের পক্ষে শুনানি করেন সিফাত মাহমুদ শুভ। অসুস্থ থাকায় মানবিক বিবেচনায় আশরাফ উদ্দিনের জামিন চান তিনি। এ ছাড়া গ্রেপ্তার হওয়ার এক বছরেও প্রসিকিউশন থেকে তদন্ত প্রতিবেদন না দেয়ায় আইনি ব্যাখ্যা তুলে শফিকুলের জামিন চান তার আইনজীবী। তবে তাদের এসব যুক্তি নিয়ে বিরোধিতা করে প্রসিকিউশন।

মানবতাবিরোধী অপরাধের এ মামলায় আশরাফ ও শফিকুলের বিরুদ্ধে যথেষ্ট প্রমাণাদি মিলেছে বলে ট্রাইব্যুনালকে জানান প্রসিকিউটর মঈনুল করিম। একই সঙ্গে জামিন না দেয়ার আর্জি জানান।

উভয়পক্ষের শুনানি শেষে জামিনের বিষয়ে কোনো আদেশ না দিয়ে আগামী ১২ জুলাইয়ের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন ট্রাইব্যুনাল।

এ প্রসঙ্গে প্রসিকিউটর মঈনুল করিম বলেন, গাজীপুরের কোনাবাড়িতে হৃদয় নামের এক শিক্ষার্থীকে খুব কাছ থেকে গুলি চালিয়ে হত্যা করা হয়েছে। গুলি চালান আকরাম। তিনি স্বীকারোক্তিও দিয়েছেন। সেই মামলায় গত ১২ মে ডিবির শফিকুল ইসলাম ও সাবেক ওসি আশরাফুল উদ্দিনের জামিন চেয়ে আবেদন করেছিল আসামিপক্ষ। আজ শুনানির জন্য দিন ধার্য করেছিলেন ট্রাইব্যুনাল।

তিনি বলেন, শফিকুল ইসলামের পক্ষে গ্রাউন্ড দেখানো হয়েছে যে, যদি গ্রেপ্তারের এক বছরেও তদন্ত প্রতিবেদন না দেয়া হয়, তাহলে জামিন দিতে পারেন আদালত। এ ছাড়া আশরাফের ক্ষেত্রেও একই গ্রাউন্ডসহ অসুস্থতা দেখিয়ে জামিন চেয়েছেন। একই সঙ্গে কিছু স্বাস্থ্য সনদও দেয়া হয়েছে। তবে আমরা বলেছি আদালত চাইলে এ সময় আরও ছয় মাস বাড়াতে পারেন। পরে কোনো ধরনের আদেশ দেননি আদালত।

প্রসিকিউটর মঈনুল বলেন, এ মামলার তদন্ত প্রায় শেষ পর্যায়ে। এই দুজনের জড়িত থাকার পর্যাপ্ত প্রমাণাদি পেয়েছি আমরা। এছাড়া লাশটি এখনও খুঁজে পাওয়া যায়নি। গুলি করে হত্যার পর গভীর রাতে গাড়িতে তুলে আশরাফ ও শফিকুলের মদদে লাশটি করতোয়া নদীতে ফেলে দেয়া হয়েছে।



banner close
banner close