মালয়েশিয়ায় শ্রমিক পাঠানোর নামে ১১৯ কোটি টাকারও বেশি আত্মসাতের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা মামলায় 'এক-এগারো'র আলোচিত সেনা কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। সোমবার ঢাকা মহানগর দায়রা জজ মো. সাব্বির ফয়েজ শুনানি শেষে এই আদেশ দেন।
এদিন কারাগার থেকে মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে কড়া পুলিশ প্রহরায় আদালতে হাজির করা হয়। তাঁর উপস্থিতিতে শুনানিতে দুদক প্রসিকিউটর দেলোয়ার জাহান রুমি গ্রেপ্তার দেখানোর যৌক্তিকতা তুলে ধরেন। শুনানি শেষে আদালত তাঁকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে পুনরায় কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
অভিযোগের বিবরণ
মামলার আবেদনে উল্লেখ করা হয়, মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী ও তাঁর সহযোগীরা পরস্পর যোগসাজশে সরকারি ক্ষমতার অপব্যবহার করে মালয়েশিয়ায় শ্রমিক রিক্রুটের কাজ পান। সরকার নির্ধারিত ৭৮ হাজার ৯৯০ টাকার চেয়ে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করে সাত হাজার ১২৪ জন কর্মীর পাসপোর্ট, স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং বিভিন্ন খরচের নামে বাড়তি অর্থ নেওয়া হয়। এভাবে মোট ১১৯ কোটি ৩২ লাখ ৭০ হাজার টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে অভিযোগ।
আবেদনে আরও বলা হয়, সরকারদলীয় এমপির প্রভাব খাটিয়ে অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে রিক্রুট হওয়া শ্রমিকদের আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়।
গত ১১ মার্চ মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীসহ অন্যদের বিরুদ্ধে এই মামলা দায়ের করা হয়। পরে ২৫ মার্চ দুদকের সহকারী পরিচালক আবুল কালাম আজাদ তাঁকে এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন। তদন্ত কর্মকর্তা আবেদনে উল্লেখ করেন, আসামি জামিনে মুক্তি পেলে তদন্তে বাধা সৃষ্টি হতে পারে।
গ্রেপ্তার ও রিমান্ডের ইতিহাস
গত ২৩ মার্চ রাতে রাজধানীর বারিধারা ডিওএইচএস এলাকার নিজ বাসা থেকে মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে গ্রেপ্তার করা হয়। সিন্ডিকেট করে ২৪ হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ ও মানব পাচারের অভিযোগে পল্টন মডেল থানার মামলায় তাঁকে ১৪ দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।
এরপর মিরপুর মডেল থানার দুটি হত্যা মামলায়ও তাঁকে একাধিকবার রিমান্ডে নেওয়া হয়। রিমান্ড শেষে গত ৭ মে তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়।
একই দিন ফেনীতে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানোর নির্দেশ দেন। গত ১১ মে বনানী থানায় মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনের আরেকটি মামলায়ও তাঁকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়।
আরও পড়ুন:








