শনিবার

১৬ মে, ২০২৬ ২ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩

অপরিকল্পিতভাবে চামড়া খাতকে ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়েছে: শিল্পমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৬ মে, ২০২৬ ২২:০৭

শেয়ার

অপরিকল্পিতভাবে চামড়া খাতকে ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়েছে: শিল্পমন্ত্রী
ছবি সংগৃহীত

বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন–এর সাভার চামড়া শিল্পনগরী পরিদর্শনে গিয়ে শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মোক্তাদির বলেছেন, হাজারীবাগ থেকে সাভারে ট্যানারি শিল্প স্থানান্তর ছিল ‘অপরিকল্পিত ও অবহেলাপূর্ণ’। এতে দেশের অন্যতম সম্ভাবনাময় রপ্তানি খাত চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে সঠিক প্রক্রিয়াজাতকরণ নিশ্চিত করা গেলে এ খাত থেকে বছরে ১২ বিলিয়ন ডলার আয় সম্ভব বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

শনিবার সাভারের হেমায়েতপুরের হরিণধরা এলাকায় চামড়া শিল্পনগরীর কেন্দ্রীয় বর্জ্য পরিশোধনাগার (সিইটিপি) পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

এর আগে শিল্পমন্ত্রী বিসিক কার্যালয়ে ট্যানারি মালিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় অংশ নেন।

আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে বর্জ্যের বাড়তি চাপ মোকাবিলায় বর্তমান সিইটিপির সক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, বিদ্যমান অবকাঠামো দিয়ে অতিরিক্ত বর্জ্য সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়বে।

মন্ত্রী জানান, বর্তমানে সিইটিপিতে প্রি-ট্রিটমেন্টের মান বজায় রেখে প্রতিদিন ১৪ হাজার থেকে ১৮ হাজার সিপিএম বর্জ্য পরিশোধনের সক্ষমতা রয়েছে। কিন্তু ঈদ মৌসুমে কাঁচা চামড়া প্রক্রিয়াজাতকরণের পরিমাণ কয়েকগুণ বেড়ে যাওয়ায় দৈনিক বর্জ্য পরিশোধনের চাহিদা প্রায় ৪৫ হাজার সিপিএমে পৌঁছে যায়। এতে কেন্দ্রীয় বর্জ্য পরিশোধন ব্যবস্থার ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হয় এবং কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।

পরিবেশ সুরক্ষার বিষয়টি সরকার গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে উল্লেখ করে খন্দকার আব্দুল মোক্তাদির বলেন, ভবিষ্যতে আর্থিক ও কারিগরি সক্ষম ট্যানারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিজস্ব ইটিপি (এফ্লুয়েন্ট ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট) স্থাপনে উৎসাহিত করা হবে। এতে কেন্দ্রীয় সিইটিপির ওপর চাপ কমবে এবং পরিবেশ দূষণ নিয়ন্ত্রণ আরও কার্যকর হবে। এ ধরনের উদ্যোগে সরকার নীতিগত ও কারিগরি সহায়তা দেবে বলেও জানান তিনি।

ট্যানারি শিল্পের পরিবেশগত সংকট নিরসনে সরকারের অঙ্গীকারের কথা তুলে ধরে শিল্পমন্ত্রী বলেন, সিইটিপির প্রযুক্তিগত ও ব্যবস্থাপনাগত সমস্যাগুলোর দ্রুত সমাধান করে পরিবেশসম্মত ট্যানারি শিল্প গড়ে তুলতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

মতবিনিময় সভায় শিল্প মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিসিক কর্তৃপক্ষ এবং বিভিন্ন ট্যানারি মালিক উপস্থিত ছিলেন।



banner close
banner close