আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সন্ত্রাসবাদ-সংশ্লিষ্ট বয়ান প্রচার করেও পাকিস্তানকে কূটনৈতিকভাবে একঘরে করার ভারতের দীর্ঘদিনের প্রচেষ্টা সফল হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালাইসিস উইংয়ের (RAW) সাবেক প্রধান এএস দুলাত।
একটি ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমকে দেয়া সাক্ষাৎকারে দুলাত বলেন, ভারত শুরু থেকেই পাকিস্তানকে বিশ্বব্যাপী বিচ্ছিন্ন করার চেষ্টা করেছিল। তবে আন্তর্জাতিক লবিং, উপলব্ধ সংস্থান ও প্রক্সি চ্যানেল ব্যবহার করেও তারা সেই লক্ষ্য অর্জন করতে পারেনি। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগ স্থবির থাকায় পাকিস্তান-ভারত সম্পর্ক অনেকটাই হিমায়িত অবস্থায় রয়েছে।
২০২৫ সালের মে মাসে ৮৭ ঘণ্টার যুদ্ধ চলাকালে পাকিস্তান ভারতের আটটি যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করে বলে যাদের মধ্যে ছিল ফ্রান্সের তৈরি চারটি রাফাল, একটি সুখোই-৩০, একটি মিগ-২৯, একটি মিরাজ ২০০০ এবং একটি 'ব্যয়বহুল' মাল্টি-রোল চালকবিহীন আকাশযান (ড্রোন) পদ্ধতি।
এই সামরিক সংঘাতের পর পাকিস্তান আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় একটি গুরুত্বপূর্ণ শক্তি হিসেবে সামনে আসে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ভূমিকা পালন করে দেশটি প্রথমে ১৪ দিনের একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করতে সক্ষম হয়, যা পরে আরও বাড়ানো হয়। সাক্ষাৎকারে সাবেক র' প্রধান বলেন, ভারতের মধ্যে একটি ধারণা রয়েছে যে পাকিস্তান একসময় ভেঙে টুকরো টুকরো হয়ে যাবে। তবে তিনি বলেন, এই দেশটি কখনোই ভেঙে যাবে না।
দুলাতের মতে, বর্তমান আঞ্চলিক পরিস্থিতি ইঙ্গিত করছে যে ভারত নিজেই ধীরে ধীরে আরও বেশি কূটনৈতিক ও রাজনৈতিকভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে। পাকিস্তানের সামরিক নেতৃত্ব প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দেশটির চিফ অব ডিফেন্স ফোর্সেস এবং সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ক্রমশ বেশি স্বীকৃতি ও মনোযোগ পাচ্ছেন। তিনি আরও দাবি করেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ফিল্ড মার্শাল মুনিরকে তার 'প্রিয় ফিল্ড মার্শাল' হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় আলোচনা শুরু হওয়ার পর থেকে ট্রাম্প একাধিকবার প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ও সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের প্রশংসা করেছেন। দুলাত বলেন, মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তানের ভারসাম্যপূর্ণ, সক্রিয় ও দায়িত্বশীল কূটনৈতিক তৎপরতা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে দেশটির অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করেছে। ভারতের বেআইনিভাবে দখলকৃত জম্মু ও কাশ্মীর (আইআইওজেক) প্রসঙ্গে মন্তব্য করতে গিয়ে সাবেক এই গোয়েন্দা প্রধান বলেন, এই সংকটের পেছনের বাস্তবতা হলো সেখানকার জনগণের মধ্যে চলমান অশান্তি, অনিশ্চয়তা ও তীব্র বঞ্চনাবোধ।
আরও পড়ুন:








