শুক্রবার

১৫ মে, ২০২৬ ১ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩

বিশেষায়িত ইউনিটে জনবল ও অবকাঠামো বাড়ানোর দাবি বাংলাদেশ পুলিশের

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৫ মে, ২০২৬ ১৬:১৮

শেয়ার

বিশেষায়িত ইউনিটে জনবল ও অবকাঠামো বাড়ানোর দাবি বাংলাদেশ পুলিশের

ক্রমবর্ধমান নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বাংলাদেশ পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিটগুলোতে জনবল ও অবকাঠামো বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। শিল্প, নৌ, পর্যটন, হাইওয়ে এবং সশস্ত্র পুলিশ ব্যাটালিয়নসহ একাধিক বিশেষায়িত ইউনিট বর্তমানে সীমিত জনবল নিয়ে কাজ করছে বলে পুলিশ সদর দপ্তর সূত্রে জানা গেছে।

পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ইতোমধ্যে অতিরিক্ত ৫ হাজার জনবল এবং স্থায়ী অফিস ভবনের জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে দুটি আলাদা প্রস্তাব পাঠিয়েছে।

পিবিআই প্রধান ও পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক মো. মোস্তফা কামাল জানান, বর্তমানে সংস্থাটিতে মাত্র ২ হাজার ৩১ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী রয়েছেন। তারা দেশের ৪২টি জেলায় ভাড়া করা অফিস থেকে কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। জনবল ও স্থায়ী অবকাঠামোর অভাবে তদন্ত কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

২০১২ সালে প্রতিষ্ঠিত পিবিআই প্রশিক্ষিত কর্মকর্তা ও আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয়ে জটিল অপরাধ, সাইবার অপরাধ, সন্ত্রাসবাদ এবং সংঘবদ্ধ অপরাধের তদন্ত পরিচালনা করে থাকে।

শিল্প পুলিশের বিষয়ে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশের রপ্তানিমুখী পোশাক শিল্প ও উদীয়মান অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোর ক্রমসম্প্রসারণের সঙ্গে সংগতি রেখে এই ইউনিটের সক্ষমতা বাড়ানো জরুরি। বর্তমানে শিল্প পুলিশের কার্যক্রম মাত্র কয়েকটি অঞ্চলে সীমিত। শিল্পপ্রধান সব এলাকায় পূর্ণাঙ্গ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত ইউনিট ও জনবল প্রয়োজন বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

নৌ পুলিশ প্রসঙ্গে কর্মকর্তারা বলছেন, নৌপথে অপরাধ দমন, চোরাচালান প্রতিরোধ এবং নদীবন্দরগুলোর নিরাপত্তা জোরদারে এই ইউনিটের সক্ষমতা বৃদ্ধি এখন সময়ের দাবি।

পর্যটন খাতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ ট্যুরিস্ট পুলিশের সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর জোর দেন। তিনি বলেন, পর্যটন খাতের উন্নয়ন, দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং দেশের ইতিবাচক ভাবমূর্তি তুলে ধরতে এই ইউনিটকে আরও শক্তিশালী করা অপরিহার্য।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মনে করছেন, দক্ষ জনবল ও প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক পুলিশিংয়ের মাধ্যমে বিশেষায়িত ইউনিটগুলোকে শক্তিশালী করা গেলে জনসেবার মান উন্নত হবে এবং দেশের সামগ্রিক নিরাপত্তা কাঠামো আরও মজবুত হবে। এই উদ্যোগ পুলিশ বাহিনীকে আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর ও জনবান্ধব প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের সরকারি প্রতিশ্রুতিরও প্রতিফলন বলে তারা মনে করেন।



banner close
banner close