শুক্রবার

১৫ মে, ২০২৬ ১ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩

তৃতীয় টার্মিনাল উদ্বোধনের আগেই শুরু ১১০০ কোটি টাকার ঋণ কিস্তি

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৫ মে, ২০২৬ ১৫:০৬

শেয়ার

তৃতীয় টার্মিনাল উদ্বোধনের আগেই শুরু ১১০০ কোটি টাকার ঋণ কিস্তি
ছবি সংগৃহীত

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল আগামী ১৬ ডিসেম্বর উদ্বোধনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও পুরোদমে চালু হতে আরও কয়েক মাস সময় লাগবে বলে জানিয়েছে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)। এর মধ্যেই আগামী জুন থেকে জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা জাইকার ঋণের বার্ষিক কিস্তি পরিশোধ শুরু হচ্ছে। প্রতি বছরের কিস্তির পরিমাণ প্রায় ১ হাজার ১০০ কোটি টাকা।

চুক্তি এখনও চূড়ান্ত হয়নি

তৃতীয় টার্মিনাল পরিচালনার চুক্তি নিয়ে বেবিচক ও জাপান কনসোর্টিয়ামের মধ্যে এখনও ঐকমত্য হয়নি। মূল বিরোধ আয় বণ্টন নিয়ে। জাপান কনসোর্টিয়াম মোট আয়ের ২৫ শতাংশ বেবিচককে দিতে সম্মত হলেও বেবিচক আরও বেশি অংশ দাবি করছে।

বেবিচকের সদস্য (পরিচালনা ও পরিকল্পনা) এয়ার কমডোর মেহবুব খান বলেন, "জাইকার সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের দেওয়া প্রস্তাব মানা হলে বেবিচকের তেমন কোনো লাভ থাকে না। এ কারণেই চুক্তি বারবার পিছিয়ে যাচ্ছে।" তবে তিনি আশা প্রকাশ করেন, বর্তমান আলোচনায় উভয় পক্ষই লাভজনক অবস্থানে রয়েছে এবং শিগগিরই সমঝোতা হবে।

দীর্ঘ ঋণ পরিশোধের বোঝা

তৃতীয় টার্মিনালের মোট প্রকল্প ব্যয় ২১ হাজার ৩০০ কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকার দিয়েছে ৫ হাজার কোটি টাকা, বাকি অর্থ এসেছে জাইকার ঋণ হিসেবে। এই ঋণের কিস্তি আরও দেড় বছর আগে শুরু হওয়ার কথা থাকলেও বেবিচক সময় বাড়িয়ে নেয়। এখন চলতি বছরের জুন থেকে কিস্তি পরিশোধ শুরু হবে এবং ২০৫৬ সাল পর্যন্ত তা অব্যাহত থাকবে।

উদ্বোধনের পরিকল্পনা ও প্রস্তুতি

সরকার মহান বিজয় দিবস ১৬ ডিসেম্বরকে টার্মিনাল উদ্বোধনের সম্ভাব্য তারিখ ধরে প্রস্তুতি এগিয়ে নিচ্ছে। ওই দিন একটি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে।

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, "১৬ ডিসেম্বরকে সম্ভাব্য তারিখ বিবেচনায় রেখে তৃতীয় টার্মিনাল চালুর সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করার কাজ চলছে।"

তবে চুক্তি সই এবং অপারেশন রেডিনেস অ্যান্ড এয়ারপোর্ট ট্রান্সফার (ওরাট) কার্যক্রম সম্পন্ন হতে ছয় মাসের বেশি সময় লাগতে পারে। ফলে টার্মিনালের পূর্ণ সুবিধা পেতে আগামী বছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতে পারে।

পরিচালনায় জাপানি কনসোর্টিয়াম

ওরাট কার্যক্রম পরিচালনা করবে জাপান এয়ারপোর্ট টার্মিনাল কোম্পানি, সুমিতোমো করপোরেশন, সোজিৎস করপোরেশন ও নারিতা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর করপোরেশনের সমন্বয়ে গঠিত একটি কনসোর্টিয়াম। নিরাপত্তা তদারকির দায়িত্বে থাকবে বেবিচক। গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের পাশাপাশি একটি বিদেশি প্রতিষ্ঠানও যুক্ত থাকবে। টার্মিনালে মোট প্রায় ৬ হাজার কর্মী কাজ করবেন, যার মধ্যে ৪ হাজার নিরাপত্তাকর্মী।

টার্মিনালের সক্ষমতা

২০১৯ সালের ২৮ ডিসেম্বর নির্মাণকাজ শুরু হওয়া এই টার্মিনালের আয়তন ২ লাখ ৩০ হাজার বর্গমিটার। এতে রয়েছে ১১৫টি চেক-ইন কাউন্টার, ৬৬টি ডিপারচার ও ৫৯টি অ্যারাইভাল ইমিগ্রেশন ডেস্ক এবং তিনটি ভিআইপি ডেস্ক। চালু হলে বিমানবন্দরের বার্ষিক যাত্রী ধারণক্ষমতা ৮০ লাখ থেকে বেড়ে ২ কোটি ৪০ লাখে এবং কার্গো হ্যান্ডলিং সক্ষমতা দ্বিগুণ হয়ে বছরে ১০ লাখ টনে উন্নীত হবে।

বেবিচকের চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মোস্তাফা মাহমুদ সিদ্দিক জানান, দেশের স্বার্থ রক্ষা করেই জাপানের সঙ্গে চুক্তি সম্পাদন করা হবে এবং সে লক্ষ্যে কাজ এগিয়ে চলছে। টার্মিনাল চালুর বিষয়ে বেবিচক সদরদপ্তরে প্রতিদিন সকাল সাড়ে ৯টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে।



banner close
banner close