আগামী এক বছরের মধ্যে ধাপে ধাপে দেশের সব স্তরের স্থানীয় সরকার নির্বাচন সম্পন্ন করার লক্ষ্য নিয়ে পূর্ণাঙ্গ কর্মপরিকল্পনা তৈরি করছে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন (ইসি)। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, প্রয়োজনীয় আইন ও বিধিমালা সংশোধন, বাজেট বরাদ্দ, প্রশাসনিক প্রস্তুতি এবং মৌসুমি বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে এ পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হবে।
নির্বাচন কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার এ তথ্য জানিয়ে বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনই বর্তমানে কমিশনের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। তিনি বলেন, “আমরা এ নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছি। এখনো প্রস্তুতি পুরোপুরি শেষ হয়নি। তবে আমাদের লক্ষ্য এক বছরের মধ্যে ধাপে ধাপে সব নির্বাচন সম্পন্ন করা।”
তিনি জানান, নির্বাচন শুরুর আগে সংশ্লিষ্ট আইন, বিধি ও নীতিমালায় প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনা হবে। কমিশনের মতে, নির্বাচন ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর ও গ্রহণযোগ্য করতে কিছু আইনি সংস্কার জরুরি। এ প্রক্রিয়া শেষ করতে তিন থেকে চার মাস সময় লাগতে পারে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
এর আগে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গত ৫ মে জেলা প্রশাসক সম্মেলনে বলেন, আগামী এক বছরের মধ্যে স্থানীয় পর্যায়ের সব নির্বাচন সম্পন্ন করার চেষ্টা করা হবে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনেও তিনি বলেন, অতীত অভিজ্ঞতা অনুযায়ী দেশের সব স্তরের স্থানীয় সরকার নির্বাচন শেষ করতে সাধারণত ১০ মাস থেকে এক বছর সময় লাগে।
ইসি জানিয়েছে, ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, উপজেলা পরিষদ ও সিটি করপোরেশনসহ সব স্তরের নির্বাচন ধাপে ধাপে আয়োজন করা হবে। তবে কোন নির্বাচন আগে অনুষ্ঠিত হবে, সে বিষয়ে এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি। নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেন, সার্বিক কর্মপরিকল্পনা চূড়ান্ত হওয়ার পরই নির্বাচনের সময়সূচি ও ধাপ নির্ধারণ করা হবে।
তিনি আরও জানান, জুন মাসের জাতীয় বাজেট, বর্ষা মৌসুম এবং মাঠ প্রশাসনের প্রস্তুতির বিষয়গুলোও কমিশনের পরিকল্পনায় গুরুত্বপূর্ণ বিবেচ্য হিসেবে রয়েছে।
স্থানীয় সরকার নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে আয়োজনের আশ্বাস দিয়ে তিনি বলেন, “জাতীয় নির্বাচন যে স্ট্যান্ডার্ডে হয়েছে, সেই স্ট্যান্ডার্ডের নিচে নামার কোনো সুযোগ নেই।” তিনি আশা প্রকাশ করেন, রাজনৈতিক দল ও সরকার নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করবে এবং জনগণের আস্থা অক্ষুণ্ন থাকবে।
নির্বাচনে দলীয় প্রতীক না থাকার বিষয়টিও উল্লেখ করে আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন রাজনৈতিক পরিচয়মুক্ত পরিবেশে আয়োজনের চেষ্টা থাকবে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের নির্বাচনী ব্যবস্থার ইতিবাচক ভাবমূর্তি ধরে রাখতে কমিশন সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে।
সূত্র: বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস)
আরও পড়ুন:








