বুধবার

১৩ মে, ২০২৬ ৩০ বৈশাখ, ১৪৩৩

সবুজ সংকেতের অপেক্ষায় ইসি, বছরের শেষেই হতে পারে স্থানীয় সরকার নির্বাচন

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৩ মে, ২০২৬ ০৭:৫৮

শেয়ার

সবুজ সংকেতের অপেক্ষায় ইসি, বছরের শেষেই হতে পারে স্থানীয় সরকার নির্বাচন
ছবি সংগৃহীত

জাতীয় সংসদ ও সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচন শেষে এবার স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা পেলেই চলতি বছরের শেষ দিকে ধাপে ধাপে সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, জেলা পরিষদ, উপজেলা পরিষদ ও ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন আয়োজনের পরিকল্পনা করছে সাংবিধানিক সংস্থাটি।

ইসি সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচনকে সামনে রেখে স্থানীয় সরকার নির্বাচনসংক্রান্ত আইন ও বিধিমালা সংস্কারের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। নির্দলীয় নির্বাচনের বাস্তবতা মাথায় রেখে আচরণবিধি ও নির্বাচন পরিচালনা বিধিতে বেশ কিছু পরিবর্তনের চিন্তা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে মাঠপর্যায় থেকে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মেয়াদ, গেজেট প্রকাশ, শপথ গ্রহণ ও প্রথম সভার তারিখসহ প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহের কাজ চলছে।

এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, স্থানীয় সরকারের বিধি-বিধান সংস্কার নিয়ে কমিশন কাজ করছে। এসব কাজ শেষ করে সরকারের সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে কোন নির্বাচন আগে হবে। তিনি জানান, যেসব প্রতিষ্ঠানের মেয়াদ শেষ হয়েছে এবং যেগুলোর নির্বাচন আগে করা জনস্বার্থে জরুরি, সেগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

সম্ভাব্য সংস্কারের বিষয়ে তিনি বলেন, অনলাইনে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সুযোগ বাতিল হতে পারে। পাশাপাশি স্বতন্ত্র প্রার্থীদের জন্য এক শতাংশ ভোটারের সমর্থনসংবলিত নথি জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা তুলে দেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে। এছাড়া পোস্টার নিষিদ্ধকরণ, বিলবোর্ড ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক প্রচারণা, নির্বাচনী ব্যয় ও জামানতের পরিমাণ বৃদ্ধির মতো বিষয়ও আলোচনায় রয়েছে।

ইসির নির্বাচন পরিচালনা শাখার কর্মকর্তারা জানান, নির্দলীয় নির্বাচন হওয়ায় বিদ্যমান আচরণবিধির কিছু বিধান পরিবর্তনের সুযোগ তৈরি হয়েছে। সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদের জন্য আলাদা আচরণবিধি থাকলেও সমন্বিত কাঠামো তৈরির চেষ্টা চলছে।

ইসির নির্বাচন পরিচালনা শাখার উপসচিব মোহাম্মদ মনির হোসেন জানান, স্থানীয় সরকারের সর্বশেষ নির্বাচনের তারিখ, ভোটার তালিকা, ওয়ার্ড বিন্যাস, মামলা ও প্রশাসনিক জটিলতাসহ বিভিন্ন তথ্য হালনাগাদ করা হচ্ছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের আগামী ১৫ মে’র মধ্যে তথ্য পাঠানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

বর্তমানে দেশে ১৩টি সিটি করপোরেশন, ৫০০টি উপজেলা পরিষদ, তিন পার্বত্য জেলা বাদে ৬১টি জেলা পরিষদ এবং চার হাজার ৫৮০টি ইউনিয়ন পরিষদ রয়েছে। সর্বশেষ সিটি করপোরেশন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ২০২৪ সালের মার্চে। এর আগে ২০২১ সালে ধাপে ধাপে পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন, ২০২২ সালে জেলা পরিষদ নির্বাচন এবং ২০২৪ সালে উপজেলা পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।

আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকার স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজন করেনি। ফলে বহু প্রতিষ্ঠানে দীর্ঘ সময় ধরে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি নেই। বর্তমানে প্রশাসক ও সরকারি কর্মকর্তারা অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে এসব প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। এতে সাধারণ মানুষ কাঙ্ক্ষিত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয় সরকার সংস্কার কমিশনের সদস্য ড. ফেরদৌস আরফিনা ওসমান বলেন, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলো এখন কার্যত অভিভাবকহীন অবস্থায় রয়েছে। জনপ্রতিনিধি না থাকায় স্থানীয় জনগণ প্রত্যাশিত সেবা পাচ্ছে না। তিনি মনে করেন, জাতীয় নির্বাচনের আগেই এসব নির্বাচন হওয়া উচিত ছিল এবং এখন দ্রুত নির্বাচন সম্পন্ন করা জরুরি।

স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানায়, সরকার চাইলে অল্প সময়ের মধ্যেই নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি নেওয়া সম্ভব। বিশেষ করে ইউনিয়ন পরিষদ ও পৌরসভা নির্বাচন দিয়ে সরকার প্রথমে সাংগঠনিক সক্ষমতা যাচাই করতে পারে। পরে পর্যায়ক্রমে সিটি করপোরেশন, জেলা পরিষদ ও উপজেলা পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে।

স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের উপসচিব (ইউনিয়ন পরিষদ-১) জিয়াউর রহমান বলেন, নির্বাচন কমিশনের চাহিদা অনুযায়ী মেয়াদোত্তীর্ণ ইউনিয়ন পরিষদের তথ্য সংগ্রহ করে পাঠানো হবে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ইউনিয়ন পরিষদ স্থানীয় সরকারের সবচেয়ে বড় নেটওয়ার্ক হওয়ায় এই নির্বাচনকে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। জেলা পরিষদ গঠনের ক্ষেত্রেও ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের ভূমিকা থাকায় ইউপি নির্বাচনকে অগ্রাধিকার দেওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।



banner close
banner close