বুধবার

১৩ মে, ২০২৬ ৩০ বৈশাখ, ১৪৩৩

শাপলা চত্বর হত্যাকাণ্ডে শেখ হাসিনাকে ‘মাস্টারমাইন্ড’ দাবি, তদন্ত প্রায় শেষ

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৩ মে, ২০২৬ ০৭:১৫

শেয়ার

শাপলা চত্বর হত্যাকাণ্ডে শেখ হাসিনাকে ‘মাস্টারমাইন্ড’ দাবি, তদন্ত প্রায় শেষ
ছবি সংগৃহীত

২০১৩ সালের ৫ ও ৬ মে রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশ ঘিরে সংঘটিত সহিংসতা ও প্রাণহানির ঘটনায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা-কে ‘মাস্টারমাইন্ড’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন।

প্রসিকিউশন সূত্র জানায়, ঘটনাটিকে মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে তদন্ত করা হচ্ছে এবং মামলার প্রায় ৯০ শতাংশ তদন্তকাজ শেষ হয়েছে। আগামী ৭ জুন তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য রয়েছে। বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদার-এর নেতৃত্বাধীন ট্রাইব্যুনালে এ মামলার শুনানি চলছে। ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারপতি মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, শেখ হাসিনার সংশ্লিষ্টতার তথ্য তদন্তে পাওয়া গেছে এবং তাঁকে প্রধান আসামি করা হচ্ছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, তৎকালীন সরকারের বিভিন্ন বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের সম্পৃক্ততাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, সাবেক মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসান ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন বলে তদন্তে উঠে এসেছে। এছাড়া সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী দীপু মনি, সাংবাদিক মোজাম্মেল হক বাবু ও ফারজানা রুপা-র ভূমিকাও তদন্তাধীন রয়েছে।

প্রসিকিউশনের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনাটি ছিল একটি “সিস্টেম্যাটিক ক্রাইম” বা পরিকল্পিত অপরাধ। শাপলা চত্বরের ঘটনার পর প্রচারিত কিছু টেলিভিশন প্রতিবেদনের মাধ্যমেও ঘটনাকে ভিন্ন খাতে নেওয়ার চেষ্টা হয়েছিল বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

তদন্তে এখন পর্যন্ত মোট ৫৮ জন নিহত হওয়ার তথ্য নিশ্চিত হওয়ার কথা জানিয়েছে প্রসিকিউশন। এর মধ্যে ২০১৩ সালের ৫ মে ঢাকায় ৩২ জন, ৬ মে নারায়ণগঞ্জে ২০ জন, চট্টগ্রামে পাঁচজন এবং কুমিল্লায় একজন নিহত হন বলে দাবি করা হয়েছে।

প্রসিকিউশন সূত্রে বলা হয়েছে, নিহতদের বড় অংশ ছিলেন মাদ্রাসাছাত্র ও হেফাজতের কর্মী। তাঁদের মধ্যে কয়েকজনের পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে এবং পরিবার, কবরস্থান ও স্থানীয় সূত্র থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে।

হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব আজিজুল হক ইসলামাবাদী বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় এই মামলার কার্যক্রম নতুন গতি পেয়েছে এবং প্রসিকিউশন আন্তরিকভাবে কাজ করছে।

এ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সাবেক এএসপি এফএম ইফতেখারুল আলম জানিয়েছেন, তদন্তে শেখ হাসিনার সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে এবং শিগগিরই পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন প্রসিকিউশনের কাছে জমা দেওয়া হবে।

মামলায় আসামিদের তালিকায় সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহীউদ্দীন খান আলমগীর, সাবেক প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু, সাবেক আইজিপি কেএম শহীদুল হক, বেনজীর আহমেদ, সাবেক ডিআইজি মোল্যা নজরুল ইসলাম এবং গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ইমরান এইচ সরকার-এর নামও রয়েছে বলে জানা গেছে।

এদিকে মানবাধিকার সংগঠন অধিকার ২০২১ সালের এক প্রতিবেদনে দাবি করেছিল, তারা শাপলা চত্বর ঘটনায় নিহত ৬১ জনের নাম সংগ্রহ করেছে। পরে ২০২৪ সালের ১৯ আগস্ট সংগঠনটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সেই তালিকা প্রকাশ করে।



banner close
banner close