মঙ্গলবার

১২ মে, ২০২৬ ২৯ বৈশাখ, ১৪৩৩

ঈদযাত্রায় যানজটের ৯৪ ঝুঁকিপূর্ণ স্পট চিহ্নিত

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১২ মে, ২০২৬ ১১:২১

শেয়ার

ঈদযাত্রায় যানজটের ৯৪ ঝুঁকিপূর্ণ স্পট চিহ্নিত
ছবি সংগৃহীত

আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে সারা দেশে যানজটের সম্ভাব্য ৯৪টি গুরুত্বপূর্ণ স্পট চিহ্নিত করেছে হাইওয়ে পুলিশ। ঈদের আগে ও পরে ঘরমুখী মানুষের যাত্রা নির্বিঘ্ন রাখতে এসব এলাকায় বিশেষ নজরদারি, মনিটরিং ও আইন প্রয়োগ কার্যক্রম জোরদার করা হবে।

সোমবার (১১ মে) সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের ঈদ প্রস্তুতিমূলক সভা শেষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান সড়ক, রেল ও নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।

সভায় উপস্থাপিত কার্যপত্র অনুযায়ী, সম্ভাব্য যানজটপূর্ণ ৯৪টি স্পটের মধ্যে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে ৭টি, ঢাকা-টাঙ্গাইল-রংপুর মহাসড়কে ২৫টি, ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে ৭টি, ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে ২১টি, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ২৫টি, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে ৮টি এবং ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে ১টি স্পট রয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, ঈদযাত্রায় গাজীপুর, আবদুল্লাহপুর, বাইপাইল ও চন্দ্রা এলাকা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ ও চ্যালেঞ্জপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এসব এলাকায় অতিরিক্ত যানবাহনের চাপ, অস্থায়ী কাউন্টার এবং অনিয়মিত পরিবহন নিয়ন্ত্রণে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে।

তিনি আরও বলেন, সম্ভাব্য বৃষ্টিপাত এবার ঈদযাত্রার বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে। বৃষ্টির কারণে যানজট বৃদ্ধি, পুলিশের তৎপরতা ব্যাহত হওয়া এবং সামগ্রিক ব্যবস্থাপনায় জটিলতা তৈরি হতে পারে। এর সঙ্গে কোরবানির পশুবাহী যানবাহনের বাড়তি চাপও যুক্ত হবে।

গত ঈদে গার্মেন্টস শ্রমিকদের একযোগে ঢাকা ত্যাগের কারণে বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি হয়েছিল উল্লেখ করে শেখ রবিউল আলম বলেন, গাজীপুর ও আশপাশের এলাকায় একদিনে প্রায় ১০ থেকে ১৫ লাখ মানুষ বাড়ির উদ্দেশে রওনা হন। অনেক যাত্রী নির্ধারিত কাউন্টারের পরিবর্তে সরাসরি সড়কে নেমে যানবাহনে ওঠার চেষ্টা করায় তীব্র যানজট, দুর্ঘটনার ঝুঁকি এবং অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়। এ কারণে এবারও ধাপে ধাপে ছুটি কার্যকর করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

তিনি জানান, মহাসড়কের পাশে বা ওপরে কোনো পশুর হাট বসতে দেওয়া হবে না। এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

ফেরি ব্যবস্থাপনায়ও নতুন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, যাত্রীদের বাস থেকে নামিয়ে ফেরিতে ওঠানো হবে এবং ফেরিতে ওঠার আগে ব্যারিকেড স্থাপন করা হবে, যাতে ফেরি প্রস্তুত হওয়ার আগে কোনো যানবাহন প্রবেশ করতে না পারে। পাশাপাশি ফেরির পন্টুনে অতিরিক্ত নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌপথে দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মাণের পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।

ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন রাখতে গৃহীত সিদ্ধান্তগুলোর মধ্যে রয়েছে, আগামী ২০ থেকে ৩১ মে পর্যন্ত বিআরটিএ সদর কার্যালয়ে ২৪ ঘণ্টার নিয়ন্ত্রণ কক্ষ চালু রাখা। অতিরিক্ত ভাড়া আদায় ও যানজট নিয়ন্ত্রণে সারা দেশে বিশেষ মনিটরিং এবং ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে। এ লক্ষ্যে বিদ্যমান ১৯ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের পাশাপাশি আরও ৫০ জন নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া ঈদের আগে ও পরে গুরুত্বপূর্ণ টোল প্লাজা এবং যানজটপ্রবণ এলাকায় বিজিবি মোতায়েন করা হবে। বিআরটিসি বিশেষ ঈদ সার্ভিস পরিচালনা করবে এবং প্রয়োজনে অতিরিক্ত বাস প্রস্তুত রাখা হবে। দুর্ঘটনাপ্রবণ মহাসড়কে বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ এবং চালকদের ডোপ টেস্টও পরিচালনা করা হবে।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন হাবিবুর রশিদ, শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, ড. মোহাম্মদ জিয়াউল হকসহ পরিবহন মালিক ও শ্রমিক সংগঠনের নেতারা এবং সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।



banner close
banner close