শনিবার

৯ মে, ২০২৬ ২৬ বৈশাখ, ১৪৩৩

ঈদের পর মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণের আভাস, আলোচনায় অভিজ্ঞ ও ত্যাগী নেতারা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ৯ মে, ২০২৬ ১২:৩০

আপডেট: ৯ মে, ২০২৬ ১৪:৫৭

শেয়ার

ঈদের পর মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণের আভাস, আলোচনায় অভিজ্ঞ ও ত্যাগী নেতারা
ছবি সংগৃহীত

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বর্তমান মন্ত্রিসভার আকার শিগগিরই বাড়তে পারে বলে সরকার ও বিএনপির একাধিক উচ্চপর্যায়ের সূত্রে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। একই সঙ্গে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব পুনর্বিন্যাসের সম্ভাবনাও আলোচনায় রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, সরকারের বিভিন্ন জনবান্ধব কর্মসূচি বাস্তবায়ন এবং প্রশাসনিক কার্যক্রমে গতি আনতে ঈদুল আজহার পর বাজেট অধিবেশন শেষে মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণ করা হতে পারে। বিশেষ করে যেসব মন্ত্রণালয়ে কাজের চাপ বেশি, সেখানে নতুন নেতৃত্ব আনার পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে একজন মন্ত্রীর দায়িত্ব একটি দপ্তরের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে।

সূত্র অনুযায়ী, সম্প্রসারিত মন্ত্রিসভায় কয়েকজন নতুন পূর্ণমন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রী যুক্ত হতে পারেন। সংরক্ষিত নারী আসন থেকে নির্বাচিত একজন সংসদ সদস্যকেও মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করার আলোচনা চলছে।

নতুন মন্ত্রিসভায় অভিজ্ঞ সংসদ সদস্য, দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত রাজনৈতিক নেতা এবং কয়েকজন তরুণ মুখকে বিবেচনায় রাখা হচ্ছে বলে জানা গেছে। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের নাম আলোচনায় রয়েছে। এছাড়া সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্যদের মধ্য থেকে স্থায়ী কমিটির সদস্য বেগম সেলিমা রহমানকে মন্ত্রিসভায় নেওয়ার বিষয়েও আলোচনা চলছে।

বর্তমান মন্ত্রিসভায় নোয়াখালী অঞ্চলের কোনো প্রতিনিধি না থাকায় নোয়াখালী-২ আসনের সংসদ সদস্য ও বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জয়নুল আবদিন ফারুকের নামও আলোচনায় এসেছে। তিনি সেনবাগ থেকে ছয়বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন।

এছাড়া জাতীয় সংসদের হুইপ ও নাটোর-২ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট এম রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, পাবনা সদর আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, ঢাকা জেলা বিএনপির সভাপতি ও দোহার-নবাবগঞ্জের সংসদ সদস্য খন্দকার আবু আশফাক এবং কুমিল্লা-২ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়ার নামও আলোচনায় রয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী পদে আলোচনায় রয়েছেন খুলনার আজিজুল বারী হেলাল, ফরিদপুরের শহিদুল ইসলাম বাবুল এবং সিরাজগঞ্জের আমিরুল ইসলাম খান আলিম।

সরকারের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ে প্রশাসনিক দুর্বলতা ও কাজের ধীরগতির বিষয়টি সরকারের নজরে এসেছে। এ কারণে তিনজন মন্ত্রীর দায়িত্ব কমানো এবং একজন প্রতিমন্ত্রীর দপ্তর পরিবর্তনের আলোচনা চলছে। বিশেষ করে একাধিক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা দুই মন্ত্রীর সাম্প্রতিক বক্তব্য ও কর্মকাণ্ড নিয়ে সরকারের ভেতরে অসন্তোষ রয়েছে বলে জানা গেছে।

মন্ত্রিসভার বাইরে জাতীয় সংসদের উপনেতা হিসেবে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন এবং ড. আব্দুল মঈন খানের নাম আলোচনায় রয়েছে। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা পরিষদেও নতুন সদস্য যুক্ত হতে পারে বলে সূত্র জানিয়েছে।

টেকনোক্র্যাট কোটায় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল এবং যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেলের নাম আলোচনায় রয়েছে। বর্তমানে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টার দায়িত্বে থাকা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভীকেও মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করা হতে পারে বলে গুঞ্জন রয়েছে।

এছাড়া প্রতিমন্ত্রী পদে বিএনপির মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক অধ্যাপক মওদুদ আলমগীর পাভেলের নামও আলোচনায় এসেছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, তিনি প্রধানমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত।

বর্তমান শিক্ষামন্ত্রীকে অন্য কোনো মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে বলেও আলোচনা রয়েছে। সে ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহাদী আমিনকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, নতুন মন্ত্রী ও উপদেষ্টাদের নাম ঘোষণার বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে মন্ত্রিসভার আকার বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এ বিষয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান বলেন, এ বিষয়ে দলীয় ফোরামে কোনো আলোচনা হয়নি। কাকে কখন কোন দায়িত্ব দেওয়া হবে, সেটি সম্পূর্ণভাবে দলীয় চেয়ারম্যান ও সরকারপ্রধানের এখতিয়ার।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিএনপির স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য বলেন, সরকারপ্রধান প্রয়োজন মনে করলে বর্তমান মন্ত্রিসভা নিয়েই সরকার পরিচালনা করবেন। আবার প্রশাসনিক কাজের সুবিধার্থে মন্ত্রিসভার আকার বাড়ানোর সিদ্ধান্তও নিতে পারেন।

বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী ছাড়া মন্ত্রিসভায় ২৫ জন পূর্ণমন্ত্রী ও ২৩ জন প্রতিমন্ত্রী রয়েছেন। তবে কোনো উপমন্ত্রী নেই।



banner close
banner close