শনিবার

৯ মে, ২০২৬ ২৬ বৈশাখ, ১৪৩৩

বিতর্কিত কর্মকর্তাদের পুনর্বাসন, প্রশ্নের মুখে পুলিশ প্রশাসন

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ৯ মে, ২০২৬ ০৭:৫৪

শেয়ার

বিতর্কিত কর্মকর্তাদের পুনর্বাসন, প্রশ্নের মুখে পুলিশ প্রশাসন
ছবি সংগৃহীত

রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ থানায় আবারও দায়িত্ব পাচ্ছেন আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিতর্কিত ও আলোচিত পুলিশ কর্মকর্তারা। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর যাদের অনেককে দূরবর্তী স্টেশনে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল বা শাস্তিমূলক বদলি করা হয়েছিল, তাদেরই এখন আবার গুরুত্বপূর্ণ পদে পদায়ন করা হচ্ছে। এ নিয়ে পুলিশ প্রশাসনের ভেতরে-বাইরে বাড়ছে আলোচনা ও সমালোচনা।

২০২৩ সালে টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর থানার তৎকালীন ওসি মুহাম্মদ ফরিদুল ইসলাম থানার এসি, টেলিভিশন, আইপিএস ও সোফা সেট বাসায় নিয়ে যাওয়ার অভিযোগে ব্যাপক আলোচনায় আসেন। সে সময় বিভিন্ন গণমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। অভিযোগের পর তাকে জেলা পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হলেও বর্তমানে তিনি রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ বনানী থানার ওসি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

এ বিষয়ে ফরিদুল ইসলাম বলেন, ভূঞাপুর থানার ঘটনাটি মিডিয়ায় অতিরঞ্জিতভাবে প্রকাশ করা হয়েছিল। তিনি নিজেকে বঞ্চিত বলেও দাবি করেন।

শুধু ফরিদুল ইসলাম নন, আওয়ামী লীগ আমলে প্রভাবশালী বা বিতর্কিত হিসেবে পরিচিত আরও কয়েকজন কর্মকর্তা সম্প্রতি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পেয়েছেন। অভিযোগ রয়েছে, পুলিশের উচ্চপর্যায়কে প্রভাবিত করেই এসব পদায়ন হচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের পদায়ন পুলিশ বাহিনীর ভাবমূর্তিকে আরও সংকটে ফেলতে পারে। একই সঙ্গে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের চেতনাকেও প্রশ্নবিদ্ধ করা হচ্ছে বলে মত তাদের।

সাবেক আইজিপি নূরুল হুদা বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের শেষ দিকে পুলিশ তীব্র ভাবমূর্তি সংকটে পড়ে। পরবর্তীতে সেই সংকট কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা চললেও সাম্প্রতিক পদায়ন পরিস্থিতিকে আবারও জটিল করে তুলতে পারে।

সম্প্রতি ফেনীর পুলিশ সুপার হিসেবে পদায়ন পান মোহাম্মদ মাহবুব আলম খান। আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে তিনি চাঁপাইনবাবগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ছিলেন। তার বিরুদ্ধে বিএনপি-জামায়াতের নেতাকর্মীদের ওপর দমন-পীড়নের অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া তার বিরুদ্ধে দুটি হত্যা মামলাও রয়েছে। এর মধ্যে শিবগঞ্জ থানার যুবদল নেতা মিজান হত্যা মামলা উল্লেখযোগ্য।

তবে মাহবুব আলম খান দাবি করেন, মামলাগুলো উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং তার সঙ্গে ঘটনার কোনো সম্পৃক্ততা নেই।

ডিএমপির সাবেক বিভিন্ন থানার ওসি নুরুল মুত্তাকিন, যিনি গণ-অভ্যুত্থানের পর এপিবিএনে বদলি হয়েছিলেন, বর্তমানে মোহাম্মদপুর এলাকায় এসি (প্যাট্রোল) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

অন্যদিকে পুলিশের একটি অংশের অভিযোগ, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে ‘ব্ল্যাকলিস্টেড’ থাকা বা বিএনপিপন্থি পরিচয়ের কারণে যারা বঞ্চিত ছিলেন, বর্তমানেও তাদের উপেক্ষা করা হচ্ছে। তাদের ভাষ্য, বিতর্কিত ও সুবিধাভোগী কর্মকর্তারাই আবার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পাচ্ছেন।

রাজধানীর মতিঝিল থানার ওসি কামরুজ্জামান, নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানার ওসি মাহাবুব রহমান, চট্টগ্রামের চান্দগাঁও থানার ওসি নূর হোসেন মামুন এবং ইপিজেড থানার ওসি আতিকুর রহমানের পদায়ন নিয়েও বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠেছে।

এছাড়া মাদারীপুরের শিবচর থানায় ওসি হিসেবে দায়িত্ব পাওয়া আমির হোসেন সেরনিয়াবাতকে সমালোচনার মুখে চার দিনের মাথায় প্রত্যাহার করা হয়। একইভাবে ভোলার ছাত্রদল নেতা নুরে আলম হত্যা মামলার আসামি আরমান হোসেনকে রামু থানার ওসি হিসেবে পদায়নের বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনার জন্ম দিলে শেষ পর্যন্ত সেই পদায়ন কার্যকর হয়নি।

ডিএমপির গুলশান থানার ওসি দাউদ খানকেও ঘিরে আলোচনা রয়েছে। দীর্ঘদিন ডিবিতে দায়িত্ব পালন করা এই কর্মকর্তা গণ-অভ্যুত্থানের পরও ঢাকাতেই বহাল ছিলেন এবং পরবর্তীতে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ থানায় দায়িত্ব পান।

পুলিশ সদর দপ্তরের ডিআইজি (প্রশাসন) আবু রায়হান মুহাম্মদ সালেহ বলেন, তিনি সম্প্রতি প্রশাসন বিভাগের দায়িত্ব নিয়েছেন। বিষয়গুলো বুঝে নেওয়ার পর এ বিষয়ে মন্তব্য করবেন।



banner close
banner close