দৈনিক প্রথম আলো-এর সম্পাদক মতিউর রহমানসহ তিন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে হবিগঞ্জের আদালতে ১০০ কোটি টাকার ক্ষতিপূরণ চেয়ে মানহানির মামলা করা হয়েছে। বুধবার হবিগঞ্জের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে স্থানীয় এনজিও পিপলস অ্যাসিস্ট্যান্ট ফর সোশ্যাল অ্যাডভান্সমেন্ট (পাশা)–এর নির্বাহী পরিচালক সৈয়দ হুমায়ুন কবির মামলাটি দায়ের করেন। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে হবিগঞ্জ ডিবি পুলিশকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।
মামলার অপর আসামিরা হলেন প্রথম আলোর জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক রিয়াদুল করিম এবং হবিগঞ্জ প্রতিনিধি হাফিজুর রহমান নিয়ন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোছা. তানজিনা তানিন মামলাটি গ্রহণ করে তদন্তের দায়িত্ব ডিবি পুলিশকে দেন।
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে নির্বাচন কমিশন স্থানীয় প্রশাসন ও গোয়েন্দা সংস্থার তদন্ত শেষে পাশাকে ১০ হাজার ৫৫৯ জন নির্বাচন পর্যবেক্ষক নিয়োগের অনুমোদন দেয়। পরে গত ৫ ফেব্রুয়ারি প্রথম আলোতে এক ব্যক্তিনির্ভর পাশা দিচ্ছে ১০ হাজার নির্বাচন পর্যবেক্ষক শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনে সংস্থাটির বিরুদ্ধে তথ্যবিহীন ও মানহানিকর বক্তব্য উপস্থাপন করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়।
বাদীপক্ষের দাবি, ওই প্রতিবেদন ও সম্পাদকীয় প্রকাশের পর দেশ-বিদেশের দাতা সংস্থা, শুভানুধ্যায়ী ও সংশ্লিষ্ট মহলে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয় এবং সংস্থাটির সুনাম ক্ষুণ্ণ হয়। একই সঙ্গে নির্বাচন কমিশন পর্যবেক্ষক নিয়োগ কার্যক্রম স্থগিত করায় আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হয়েছে বলেও মামলায় উল্লেখ করা হয়।
মামলায় আরও অভিযোগ করা হয়েছে, প্রকাশিত সংবাদ ও সম্পাদকীয়তে সংস্থাটিকে নামসর্বস্ব, নিজস্ব প্রকল্পবিহীন এবং টাকার বিনিময়ে পর্যবেক্ষক কার্ড বিক্রির অভিযোগ রয়েছে বলে উপস্থাপন করা হয়েছে, যা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। এছাড়া সংস্থার প্রধান কার্যালয়ের ছবি সম্পাদনা করে প্রকাশ করা হয়েছে বলেও অভিযোগ আনা হয়।
বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট শহীদুল ইসলাম বলেন, এসব সংবাদের কারণে সংস্থাটির প্রায় ১০০ কোটি টাকার মানহানি হয়েছে দাবি করে সংশ্লিষ্টদের কাছে লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়েছিল। সন্তোষজনক জবাব না পাওয়ায় আদালতে মামলা করা হয়।
প্রথম আলোর পক্ষ থেকে এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
আরও পড়ুন:








