স্থানীয় সরকার নির্বাচনে পোস্টার ব্যবহার নিষিদ্ধ করার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, উপজেলা, জেলা ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের আচরণ বিধিমালায় সংশোধনী এনে এ নিয়ম কার্যকর করতে যাচ্ছে কমিশন। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহারের সুযোগ রেখে নতুন বিধান যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ইসির অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে এ বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। ইতোমধ্যে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আচরণ বিধিমালা ও নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালার সংশোধনী খসড়া তৈরির নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে ইসি সচিবালয়ের কর্মকর্তাদের।
নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা বলছেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পোস্টারবিহীন প্রচারের ইতিবাচক ফল পাওয়া গেছে। সেই অভিজ্ঞতার ভিত্তিতেই স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও পোস্টার নিষিদ্ধের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। কমিশনের ধারণা, এতে পরিবেশদূষণ কমবে এবং নির্বাচনি প্রচারে নতুন মাত্রা যুক্ত হবে।
এদিকে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সংসদ সদস্যদের প্রভাব বিস্তার ঠেকাতেও নতুন বিধান আনার চিন্তা করছে ইসি। সরকার প্রতিটি উপজেলায় এমপিদের জন্য কার্যালয় নির্মাণ করায়, সেসব কার্যালয় ব্যবহার করে নির্বাচনে প্রভাব বিস্তারের আশঙ্কা রয়েছে বলে মনে করছে কমিশন। এ কারণে আচরণ বিধিমালায় নতুন ধারা-উপধারা সংযোজনের বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে।
নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালায়ও বেশ কিছু পরিবর্তন আনার পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে মনোনয়নপত্রের ফরম পরিবর্তন, প্রার্থীর বিদেশে থাকা সম্পদের তথ্য হলফনামায় উল্লেখ বাধ্যতামূলক করা এবং স্বতন্ত্র বা দলীয় প্রার্থী হওয়ার ক্ষেত্রে ভোটারের স্বাক্ষর জমা দেওয়ার বিধান বাতিল করা।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারের সুযোগ দেওয়া হলেও এর অপব্যবহার রোধে নতুন বিধান যুক্ত করা হবে বলে জানিয়েছে ইসি। সংসদ নির্বাচনের অভিজ্ঞতাকে এ ক্ষেত্রে কাজে লাগানোর কথা ভাবা হচ্ছে।
ইসির কর্মকর্তারা জানান, চলতি বছরের শেষ দিকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু হতে পারে ধরে নিয়েই প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। জেলা প্রশাসকদের ইতোমধ্যে নির্বাচন প্রস্তুতির নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার জেলা প্রশাসন সম্মেলনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এএমএম নাসির উদ্দিন ও চার নির্বাচন কমিশনার মাঠ প্রশাসনকে এ বিষয়ে নির্দেশনা দেন।
নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে নির্দলীয় প্রতীকে ভোট গ্রহণের বিধান রেখে সংসদে আইন পাস হয়েছে। সেই আইন অনুযায়ী বিধিমালার সংশোধনী প্রস্তুত করা হচ্ছে। তবে নির্বাচন কবে শুরু হবে, সে বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানান তিনি।
অন্যদিকে নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বলেন, পোস্টার ছাড়াও কার্যকর প্রচার চালানো সম্ভব, যা সংসদ নির্বাচনে প্রমাণিত হয়েছে। স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও সেই বিধান কার্যকর করার চিন্তা করছে কমিশন। তবে বিলবোর্ডে প্রচারের সুযোগ থাকবে কি না, সে বিষয়ে এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি।
বর্তমানে দেশের ১২টি সিটি করপোরেশন, ৪৫০টির বেশি উপজেলা পরিষদ, তিন শতাধিক পৌরসভা ও ৬১টি জেলা পরিষদের নির্বাচন আয়োজনের সময় পেরিয়ে গেছে। এছাড়া প্রায় ৬০০ ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনের ১৮০ দিনের সময়সীমা ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। ফলে সরকারের অনুমোদন মিললে দ্রুত স্থানীয় সরকার নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করতে পারবে ইসি।
ইসি সূত্র জানায়, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে দলীয় প্রতীকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন চালু হয়েছিল। সম্প্রতি দলীয় প্রতীক ব্যবহারের বিধান বাতিল করে সংসদে পৃথক আইন পাস হয়েছে। সেই অনুযায়ী এখন নির্বাচন পরিচালনা ও আচরণ বিধিমালায় সংশোধনী আনার কাজ চলছে।
এদিকে নির্বাচনব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের একক বিধিমালার সুপারিশ আমলে না নিয়ে প্রতিটি নির্বাচনের জন্য আলাদা বিধিমালা বহাল রাখার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইসি। তবে প্রয়োজন অনুযায়ী সংশোধনী আনা হবে।
ইসি কর্মকর্তারা আরও জানান, নতুন বিধিমালা কার্যকর হলে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার পথ সহজ হবে। দলীয় মনোনয়নের প্রয়োজন হবে না এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীদের ভোটারের স্বাক্ষর সংগ্রহের বাধ্যবাধকতাও তুলে দেওয়া হবে। ফলে আইন অনুযায়ী যোগ্য যে কেউ সহজেই নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন।
আরও পড়ুন:








