দেশে সড়ক ও সেতুতে আধুনিক টোল আদায়ের ব্যবস্থা হিসেবে ইলেকট্রনিক টোল কালেকশন (ইটিসি) চালু হলেও প্রযুক্তিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক ভিন্নতার কারণে প্রত্যাশিত সুবিধা পাচ্ছেন না ব্যবহারকারীরা। একাধিক সংস্থা ও অপারেটরের আলাদা সফটওয়্যার ব্যবস্থার ফলে একই গাড়ির জন্য ভিন্ন ভিন্ন প্ল্যাটফর্মে নিবন্ধন করতে হচ্ছে, যা সময় ও ভোগান্তি বাড়াচ্ছে।
বর্তমানে সেতু বিভাগ, সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর (সওজ) এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন—এই তিন সংস্থা পৃথকভাবে ইটিসি পরিচালনা করছে। পাশাপাশি ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েতেও রয়েছে স্বতন্ত্র পদ্ধতি। প্রতিটি ব্যবস্থার জন্য আলাদা নিবন্ধন, ভিন্ন মোবাইল আর্থিক সেবা ও পৃথক প্রযুক্তি ব্যবহারের কারণে একটি প্ল্যাটফর্ম অন্যটিতে কার্যকর হচ্ছে না।
সেতু বিভাগের আওতায় যমুনা, পদ্মা, মুক্তারপুর সেতু ও কর্ণফুলী টানেলে ইটিসি চালু থাকলেও সেখানে একাধিক অপারেটর ও সফটওয়্যার ব্যবহৃত হচ্ছে। যমুনা ও মুক্তারপুর সেতুতে এক ধরনের ব্যবস্থা থাকলেও পদ্মা সেতুতে নিবন্ধনের জন্য আলাদা প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হয়। কর্ণফুলী টানেল ও ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েতে আবার ডিভাইসভিত্তিক পৃথক প্রযুক্তি ব্যবহৃত হচ্ছে, যা অন্য কোথাও কার্যকর নয়।
অন্যদিকে, সওজের আওতায় থাকা সেতু ও সড়কে একবার নিবন্ধন করলেই সব টোল প্লাজায় তা ব্যবহার করা যায়। বর্তমানে প্রায় ৬০ হাজার যানবাহন এতে নিবন্ধিত। তবে এই সুবিধা সেতু বিভাগ বা সিটি করপোরেশনের স্থাপনায় প্রযোজ্য নয়।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র হানিফ ফ্লাইওভারে ইটিসি ব্যবহারের জন্য নির্দিষ্ট সফটওয়্যার বা অনুমোদিত মোবাইল ওয়ালেটে নিবন্ধন করতে হয়, যা অন্য কোনো সড়ক বা সেতুতে কাজ করে না।
এমন বিচ্ছিন্ন ব্যবস্থার কারণে একই গাড়ির জন্য একাধিক নিবন্ধন বাধ্যতামূলক হয়ে পড়েছে। ফলে ইটিসিতে নিবন্ধিত থাকা সত্ত্বেও অনেক ক্ষেত্রে টোল দিতে গিয়ে লাইনে দাঁড়াতে হচ্ছে চালকদের। পরিবহন খাতের সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এতে সময় নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি আলাদা আলাদা প্ল্যাটফর্মে অর্থ সংরক্ষণের ঝামেলাও বাড়ছে।
ব্যবহারকারীদের মতে, ডিজিটাল টোলব্যবস্থার মূল লক্ষ্য ছিল সময় ও খরচ সাশ্রয়, কিন্তু সমন্বয়ের অভাবে তা ব্যাহত হচ্ছে। খাত-সংশ্লিষ্টরা আশঙ্কা করছেন, এই পরিস্থিতি চলতে থাকলে ইটিসির প্রতি আগ্রহ কমে যেতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইটিসি ব্যবস্থায় নীতিগত সমন্বয় ও একক প্ল্যাটফর্ম জরুরি। তা না হলে ভবিষ্যতে অতিরিক্ত ডিভাইস, ব্যয় ও জটিলতা বাড়বে, যা জনভোগান্তি আরও বাড়াতে পারে।
এ পরিস্থিতিতে সরকার সব সেতু ও সড়কের ইটিসি একক প্ল্যাটফর্মে আনার উদ্যোগ নিয়েছে। সংশ্লিষ্টদের আশা, এ পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে একবার নিবন্ধন করেই দেশের সব টোল প্লাজায় সেবা নেওয়া সম্ভব হবে, কমবে ভোগান্তি।
আরও পড়ুন:








