শনিবার

২ মে, ২০২৬ ১৯ বৈশাখ, ১৪৩৩

‘শীর্ষ সন্ত্রাসী’ নেই, সহযোগীরাই নাম ব্যবহার করছে: ডিএমপি

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২ মে, ২০২৬ ২১:৩৩

শেয়ার

‘শীর্ষ সন্ত্রাসী’ নেই, সহযোগীরাই নাম ব্যবহার করছে: ডিএমপি
ছবি সংগৃহীত

ঢাকার নিউ মার্কেট এলাকায় ‘শীর্ষ সন্ত্রাসী’ খন্দকার নাঈম আহমেদ টিটন হত্যার ঘটনার পর আন্ডারওয়ার্ল্ড নিয়ে নতুন করে আলোচনার মধ্যে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মো. সরওয়ার বলেছেন, দেশে এখন প্রকৃত অর্থে শীর্ষ সন্ত্রাসী তেমন নেই, বরং আগের সন্ত্রাসীদের সহযোগীরা নিজেদের প্রভাব বাড়াতে সেই পরিচয় ব্যবহার করছে।

শনিবার (২ মে) কারওয়ান বাজারে একটি পুলিশ ক্যাম্প উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, “শীর্ষ সন্ত্রাসী তেমন নেই। যারা আছে তারা আগের শীর্ষ সন্ত্রাসীদের সহযোগী বা তাদের মতো পরিচয় দাঁড় করানোর চেষ্টা করছে।”

গত মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) রাতে নিউ মার্কেট এলাকায় মাস্ক পরা দুই মোটরসাইকেল আরোহীর গুলিতে খন্দকার নাঈম আহমেদ টিটন নিহত হন। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত টিটন ২০০১ সালে তৎকালীন সময়ে পুলিশের প্রকাশিত ২৩ শীর্ষ সন্ত্রাসীর তালিকায় ছিলেন। তার বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগও ছিল। তার ভগ্নিপতি সানজিদুল ইসলাম ইমনও ওই সময়ের আলোচিত সন্ত্রাসী চক্রের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলে তথ্য রয়েছে।

ঘটনার পর শীর্ষ সন্ত্রাসীদের পুনরায় সক্রিয়তা নিয়ে প্রশ্ন উঠলে ডিএমপি কমিশনার বলেন, পুলিশের তালিকা নিয়মিত হালনাগাদ করা হচ্ছে এবং গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার রয়েছে। তিনি বলেন, “চিন্তার কিছু নেই। যারা নাম ভাঙিয়ে বা মাথাচাড়া দিয়ে ওঠার চেষ্টা করছে, তাদের আগেই দমন করা হবে।”

কারওয়ান বাজারে নতুন পুলিশ ক্যাম্প উদ্বোধনের বিষয়ে তিনি জানান, এলাকায় অপরাধ নিয়ন্ত্রণে এনে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখাই এই উদ্যোগের লক্ষ্য। ক্যাম্পে ২০ জন পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন এবং এর বাইরে গোয়েন্দা ও অন্যান্য ইউনিট কাজ করবে।

তিনি আরও বলেন, রাজধানীতে চাঁদাবাজি ও অন্যান্য অপরাধ দমনে বিশেষ অভিযান চলমান রয়েছে এবং তা অব্যাহত থাকবে। ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ কাজ করছে বলেও তিনি দাবি করেন।

থানায় মামলা না নেওয়ার অভিযোগ প্রসঙ্গে ডিএমপি কমিশনার বলেন, মামলা গ্রহণই থানার মূল দায়িত্ব। অভিযোগ না নিলে উপরের বিভিন্ন স্তরে জানানো হলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে অপরাধে জড়ানোর অভিযোগ নিয়ে তিনি বলেন, কোনো পুলিশ সদস্য অপরাধে জড়ালে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এমনকি মৌখিক অভিযোগ পেলেও তদন্ত করা হবে।

এ সময় ডিএমপির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানান, ক্যাম্পের কার্যক্রম মনিটর করা হবে এবং কোনো ধরনের অনিয়ম বা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের তথ্য পেলে তা দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



banner close
banner close