সিলেট নগরকে দীর্ঘস্থায়ী বন্যা ও জলাবদ্ধতা থেকে সুরক্ষা দিতে সাড়ে সাত হাজার কোটি টাকার একটি মেগা প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছে। শনিবার (২ মে) সকাল ১১টায় সুরমা নদীর তীরে চাঁদনীঘাট এলাকায় সিলেট সিটি করপোরেশন আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রকল্পটির উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, প্রকল্পের আওতায় সুরমা নদীর সংযোগস্থলে একাধিক স্লুইস গেট নির্মাণ, নদীর তীর উঁচু করা এবং পানি নিষ্কাশনের জন্য পাম্প স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। নগরের কাজিরবাজার, গোয়ালীছড়া ও হলদিছড়া এলাকায় মোট তিনটি স্লুইস গেট নির্মাণের প্রস্তাব রয়েছে। পাশাপাশি শাহপরান ব্রিজ থেকে বাধাঘাট ব্রিজ পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ১৭ কিলোমিটার এলাকায় নদীর দুই তীর উঁচু করা হবে। যেসব স্থানে তীর উঁচু করা সম্ভব নয়, সেখানে বন্যা নিয়ন্ত্রণ দেয়াল নির্মাণ করা হবে।
উদ্বোধনের পর প্রকল্পের বিস্তারিত পরিকল্পনা প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করেন সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী আলী আকবর। এ সময় উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার, জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা।
সিসিক সূত্র জানায়, প্রকল্পটি এখনো চূড়ান্ত অনুমোদন পায়নি। তবে বিশেষজ্ঞ মতামত ও প্রাথমিক সমীক্ষার ভিত্তিতে সরকার এটি গ্রহণের প্রক্রিয়ায় রয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, বিদেশি অর্থায়ন ও ডোনার সংস্থার মাধ্যমে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের সম্ভাবনা রয়েছে। প্রাথমিকভাবে প্রায় ৪ হাজার ৬৩৫ কোটি টাকা বরাদ্দের কথা বলা হয়েছে।
সিলেটে প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে নগরের বিভিন্ন এলাকায় ভয়াবহ জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। ২০২২ থেকে ২০২৪ সালের বন্যার অভিজ্ঞতাকে সামনে রেখে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে বন্যা নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি নদীকেন্দ্রিক পর্যটন ও নগর ব্যবস্থাপনায় নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
প্রকল্প উদ্বোধনের আগে প্রধানমন্ত্রী সিলেট পৌঁছে হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজার জিয়ারত করেন। দিনব্যাপী সফরে তাঁর বাসিয়া নদী খনন প্রকল্প, সিলেট জেলা স্টেডিয়ামের নতুন ক্রীড়া অবকাঠামো উদ্বোধন এবং রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।
আরও পড়ুন:








