শনিবার

২ মে, ২০২৬ ১৯ বৈশাখ, ১৪৩৩

ঢাকা বার নির্বাচনে বিএনপি জোটের নিরঙ্কুশ জয়, সব পদ দখল

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২ মে, ২০২৬ ০৭:১৯

শেয়ার

ঢাকা বার নির্বাচনে বিএনপি জোটের নিরঙ্কুশ জয়, সব পদ দখল
ছবি সংগৃহীত

ঢাকার ঢাকা আইনজীবী সমিতির ২০২৬-২৭ কার্যনির্বাহী পরিষদ নির্বাচনে বিএনপি-সমর্থিত নীল প্যানেল সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ সব ২৩টি পদে নিরঙ্কুশ জয় পেয়েছে। ২৯ ও ৩০ এপ্রিল অনুষ্ঠিত দুই দিনব্যাপী ভোটগ্রহণ শেষে শুক্রবার রাত প্রায় ১২টার দিকে নির্বাচন কমিশন ফল ঘোষণা করে। বিএনপি গণঅধিকার পরিষদের সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়ে নির্বাচনে অংশ নেয় এবং প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াত-এনসিপি জোটকে পরাজিত করে এই জয় অর্জন করে।

নির্বাচনে সভাপতি পদে বিএনপি জোটের প্রার্থী আনোয়ার জাহিদ ভূইয়া ৪৪৬৮ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াত জোটের এস এম কামাল উদ্দিন পান ২১৭৯ ভোট। স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. ইউনুস আলী বিশ্বাস ১৪৬ ভোট অর্জন করেন।

সাধারণ সম্পাদক পদে বিএনপি জোটের আবুল কালাম খান ৪০৪৫ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। একই পদে জামায়াত জোটের প্রার্থী আবু বক্কর সিদ্দিক পান ১৬৬১ ভোট। স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. শহিদুল্লাহ পান ৪২৪ ভোট এবং বলাই চন্দ্র দেব পান ৩৫৫ ভোট।

অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পদেও বিএনপি জোটের প্রার্থীরা জয়লাভ করেন। সিনিয়র সহসভাপতি পদে রেজাউল করিম চৌধুরী ৪৫০৮ ভোট, সহসভাপতি পদে আবুল কালাম আজাদ ৪৪৩৩ ভোট, ট্রেজারার পদে আনিসুজ্জামান আনিস ৩৯৪৭ ভোট এবং সিনিয়র সহ-সাধারণ সম্পাদক পদে ইলতুমিশ সওদাগর আ্যনি ৪৩৫৫ ভোট পান। সহ-সাধারণ সম্পাদক পদে মেহেদী হাসান জুয়েল, লাইব্রেরি সম্পাদক পদে খন্দকার মাকসুদুল হাসান, সাংস্কৃতিক সম্পাদক পদে মারজিয়া হিরা, অফিস সম্পাদক পদে আফজাল হোসেন মৃধা, ক্রীড়া সম্পাদক পদে সোহেল খান, সমাজকল্যাণ সম্পাদক পদে এ এইচ এম ফিরোজ এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি সম্পাদক পদে শফিকুল ইসলাম শফিক নির্বাচিত হন।

কার্যকরী সদস্য পদে ফারজানা ইয়াসমিন সর্বোচ্চ ৪৪২৩ ভোট পেয়ে প্রথম হন। নজরুল ইসলাম মামুন ৪৩০৩ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় এবং আদনান রহমান ৪২৭৫ ভোট পেয়ে তৃতীয় হন। এছাড়া বিএনপি জোটের অন্য সদস্যরাও নির্বাচিত হন।

নির্বাচনে জামায়াত-এনসিপি জোটের প্রার্থীরা সব গুরুত্বপূর্ণ পদেই পরাজিত হন। স্বতন্ত্র প্রার্থীরাও কোনো পদে জয়ী হতে পারেননি।

নির্বাচনকে ঘিরে অনিয়ম ও কারচুপির অভিযোগ তোলে এনসিপি-সমর্থিত ন্যাশনাল লইয়ার্স অ্যালায়েন্স। এক বিজ্ঞপ্তিতে তারা ভোট ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের অভিযোগ উত্থাপন করে। তবে প্রধান নির্বাচন কমিশনার অ্যাডভোকেট আলহাজ্ব মো. বোরহান উদ্দিন অভিযোগের ভিত্তি নেই বলে জানান। তিনি বলেন, পরাজয়ের আশঙ্কা থেকেই এ ধরনের অভিযোগ তোলা হয়েছে।

ঢাকা বারের এই নির্বাচনে মোট ভোটার ছিলেন ২০ হাজার ৭৮৫ জন আইনজীবী। এর মধ্যে ৭ হাজার ৬৯ জন ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন, যা মোট ভোটারের প্রায় ৩৪ শতাংশ। বাকি ৬৬ শতাংশ ভোটার ভোট দেননি।

এ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ-সমর্থিত সাদা প্যানেল অংশ নেয়নি। তবে দলটির সমর্থিত কয়েকজন আইনজীবী স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র সংগ্রহে বাধার অভিযোগ তুলেছেন বলে গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ২৮ ও ২৯ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত সর্বশেষ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ-সমর্থিত প্যানেল সংখ্যাগরিষ্ঠ পদে জয়লাভ করে। পরবর্তীতে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর সমিতির কার্যক্রমে স্থবিরতা দেখা দিলে ১৩ আগস্ট একটি অ্যাডহক কমিটি গঠন করা হয়, যা এতদিন দায়িত্ব পালন করে আসছিল।



banner close
banner close