বুধবার

১২ আগস্ট, ২০২৬ ২৮ শ্রাবণ, ১৪৩৩

যেভাবে এলো মহান মে দিবস

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১ মে, ২০২৬ ১০:০১

শেয়ার

যেভাবে এলো মহান মে দিবস
ছবি সংগৃহীত

আজকের মহান মে দিবস শুধু একটি দিবস নয়, শ্রমিক শ্রেণির দীর্ঘ সংগ্রাম, ত্যাগ ও আত্মদানের এক ঐতিহাসিক স্মারক।

১৮৮৬ সালের ১ মে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ৮ ঘণ্টা কর্মদিবসের দাবিতে শুরু হয় ব্যাপক ধর্মঘট ও বিক্ষোভ। শিল্পাঞ্চলগুলোতে লাখো শ্রমিক কাজ বন্ধ রেখে রাস্তায় নেমে আসেন। বিশেষ করে শিকাগো শহরের হে মার্কেট স্কয়ার-এ শ্রমিকদের সমাবেশ ছিল সবচেয়ে বড় ও তাৎপর্যপূর্ণ।

প্রথম দিনের আন্দোলন শান্তিপূর্ণ হলেও ৩ মে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এক শ্রমিক সমাবেশে পুলিশের গুলিতে কয়েকজন শ্রমিক নিহত হন। এর প্রতিবাদে ৪ মে হে মার্কেট স্কয়ারে আরেকটি সমাবেশ ডাকা হয়। সেই সমাবেশে অজ্ঞাত সূত্র থেকে বোমা নিক্ষেপের পর পুলিশ নির্বিচারে গুলি চালায়। এতে শ্রমিক ও পুলিশসহ বহু মানুষ হতাহত হন।

এই ঘটনাই ইতিহাসে হে মার্কেট ট্রাজেডি নামে পরিচিত। এরপর শুরু হয় দমন-পীড়ন। শ্রমিক নেতাদের বিরুদ্ধে প্রহসনের বিচার চালিয়ে ফাঁসিতে ঝোলানো হয় কয়েকজনকে। তবুও আন্দোলন থেমে যায়নি; বরং আরও বিস্তৃত হয়েছে।

এই সংগ্রামের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি আসে ১৮৮৯ সালে প্যারিস-এ অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক সম্মেলন-এ, যেখানে ১ মে-কে আন্তর্জাতিক শ্রমিক সংহতি দিবস হিসেবে ঘোষণা করা হয়।

মে দিবসের ইতিহাসের শিকড় আরও গভীরে প্রোথিত। কার্ল মার্কস ১৮৬৪ সালে শ্রমঘণ্টা কমানোর দাবি উত্থাপন করেন। এরপর ১৮৬৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রে শ্রমিক সংগঠনগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে ৮ ঘণ্টা কর্মদিবসের দাবি তোলে। সেই সময় শ্রমিকদের ১২ থেকে ২০ ঘণ্টা পর্যন্ত কাজ করতে বাধ্য করা হতো, যা তাদের জীবনে অসহনীয় কষ্ট বয়ে আনত।

এই অমানবিক পরিস্থিতির বিরুদ্ধে সংগঠিত হয়ে শ্রমিকরা ট্রেড ইউনিয়ন গড়ে তোলে এবং ধীরে ধীরে তাদের অধিকার আদায়ে সফল হয়। ১৮৮৬ সালের আন্দোলন সেই দীর্ঘ সংগ্রামের এক ঐতিহাসিক মোড়।

আজ বিশ্বের প্রায় সব দেশেই মে দিবস পালিত হয়। এই দিনটি শ্রমিকদের অধিকার, মর্যাদা ও ন্যায্যতার প্রতীক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত। শ্রমিকদের রক্তে রঞ্জিত সেই ইতিহাস আজও আমাদের মনে করিয়ে দেয়—অধিকার আদায় কখনো সহজে আসে না; তা অর্জন করতে হয় সংগ্রামের মধ্য দিয়েই।



banner close
banner close