পুলিশে উপপরিদর্শক (এসআই) পদে সরাসরি চার হাজার নিয়োগের উদ্যোগে সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) ও কনস্টেবলদের মধ্যে পদোন্নতি নিয়ে উদ্বেগ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তাদের আশঙ্কা, সরাসরি নিয়োগ বাড়লে শূন্যপদ কমে যাবে এবং ফলে দীর্ঘদিন অপেক্ষার পরও তারা পদোন্নতির সুযোগ থেকে বঞ্চিত হতে পারেন।
সম্প্রতি সরকারের মৌখিক সিদ্ধান্তের পর পুলিশের পলিসি গ্রুপের বৈঠকে সরাসরি এসআই নিয়োগের বিষয়টি চূড়ান্ত করা হয়। তবে পুলিশ রেগুলেশন-১৯৪৩ অনুযায়ী এসআই পদের শূন্যপদের ৫০ শতাংশ সরাসরি নিয়োগ এবং বাকি ৫০ শতাংশ বিভাগীয় পদোন্নতির মাধ্যমে পূরণের বিধান রয়েছে। নতুন সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে এ বিধান পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়ায় মাঠপর্যায়ের সদস্যদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।
এএসআই ও কনস্টেবলদের ভাষ্য, উপরের পদে সরাসরি নিয়োগ হলে ধাপে ধাপে নিচের পদগুলোতেও পদোন্নতির সুযোগ সংকুচিত হবে। এতে শুধু ব্যক্তিগত ক্যারিয়ার নয়, পুরো বাহিনীর মনোবল ও কর্মদক্ষতার ওপর প্রভাব পড়তে পারে।
পুলিশের সাবেক ও বর্তমান কর্মকর্তারা বলছেন, প্রয়োজন অনুযায়ী সরাসরি নিয়োগ দেওয়া যেতে পারে, তবে তা হিসাব-নিকাশ করে করা জরুরি। অন্যথায় সাংগঠনিক ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি পদোন্নতি প্রক্রিয়ায় জটিলতা দেখা দিতে পারে।
সাবেক আইজিপি মুহাম্মদ নুরুল হুদা বলেন, সরাসরি নিয়োগের পাশাপাশি বিভাগীয় পদোন্নতির সুযোগ বজায় রাখতে হবে। কত পদ শূন্য, কত নিয়োগ হবে এবং কীভাবে পদোন্নতি দেওয়া হবে—এসব পরিকল্পিতভাবে নির্ধারণ করা হলে নেতিবাচক প্রভাব এড়ানো সম্ভব।
পুলিশ সদর দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চার হাজার এসআই নিয়োগের প্রস্তাব ইতোমধ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় হয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। তবে এ নিয়োগে বর্তমান সদস্যদের পদোন্নতিতে প্রভাব পড়বে কি না—এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সরাসরি মন্তব্য করতে চাননি।
অন্যদিকে পদোন্নতি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ এএসআইরা বলছেন, শূন্যপদের অভাবে এমনিতেই তাদের পদোন্নতি বিলম্বিত হয়। এর মধ্যে বড় পরিসরে সরাসরি নিয়োগ হলে তাদের সুযোগ আরও সংকুচিত হবে। একইভাবে কনস্টেবলদের আশঙ্কা, এএসআইরা পদোন্নতি না পেলে তারাও পরবর্তী ধাপে এগোতে পারবেন না।
বর্তমানে পুলিশে এএসআই (নিরস্ত্র) পদ রয়েছে ২২ হাজার ৭৩৮টি এবং কনস্টেবল সংখ্যা ১ লাখ ৩০ হাজারের বেশি। প্রতি বছর হাজারো সদস্য বিভাগীয় পদোন্নতি পরীক্ষায় অংশ নিলেও সীমিত শূন্যপদের কারণে অনেকেই পদোন্নতি পান না।
এ পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সরাসরি নিয়োগ ও অভ্যন্তরীণ পদোন্নতির মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখা না গেলে বাহিনীতে হতাশা বাড়তে পারে। তবে পুলিশ সদর দপ্তরের ভাষ্য, নতুন নিয়োগের পাশাপাশি নিয়মিত পদোন্নতি প্রক্রিয়াও চলমান থাকবে এবং উভয় ব্যবস্থার সমন্বয়ের মাধ্যমে বাহিনীর সক্ষমতা ও সদস্যদের ক্যারিয়ার অগ্রগতি নিশ্চিত করা হবে।
আরও পড়ুন:








