স্বামী-স্ত্রীর পারিবারিক কলহ ও আর্থিক বিরোধের জেরে দায়ের করা একটি ‘জুলাই মামলা’তে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৩১০ জনকে আসামি করা হলেও তদন্তে অভিযোগের কোনো সত্যতা পায়নি পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। ১৬ বছর বয়সী এক কিশোর গত বছরের ৬ আগস্ট আদালতে মামলাটি দায়ের করে, যেখানে সে নিজেকে জুলাই আন্দোলনে আহত দাবি করেছিল। তবে তদন্তে দেখা যায়, ঘটনাটি ছিল পরিকল্পিত এবং ব্যক্তিগত প্রতিশোধমূলক।
মামলার বাদী এস এম ইফতেখার উদ্দিন নাদিম তার এজাহারে উল্লেখ করে, গত বছরের ১৯ জুলাই কদমতলী এলাকায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মিছিলে অংশ নেওয়ার সময় গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হয়। পরে তাকে মারধর করে থানায় সোপর্দ করা হয় এবং পরবর্তীতে চিকিৎসা নেয় বলে দাবি করে।
তবে পিবিআইয়ের তদন্তে এসব দাবির পক্ষে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তদন্ত কর্মকর্তারা সংশ্লিষ্ট এলাকার ভিডিও ফুটেজ, অনলাইন সংবাদ এবং অন্যান্য তথ্য বিশ্লেষণ করে নাদিমের উপস্থিতির কোনো প্রমাণ পাননি। এছাড়া তার আহত হওয়ার দাবির সমর্থনে কোনো চিকিৎসা সনদও উপস্থাপন করা হয়নি।
তদন্তে উঠে এসেছে, মামলার পেছনে মূল কারণ ছিল বাদীর বাবার আর্থিক বিরোধ। এস এম ইকরাম উদ্দিন শিহাব নামে ওই ব্যক্তি একসময় ট্রাভেল ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং এক ব্যক্তির কাছ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানো ও গ্রিন কার্ডের ব্যবস্থা করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রায় ৫৫ লাখ টাকা নেন। প্রতিশ্রুতি পূরণ না হওয়ায় বিরোধের সৃষ্টি হয় এবং বিষয়টি স্থানীয় সালিস পর্যন্ত গড়ায়। পরবর্তীতে টাকা পরিশোধ না করে উল্টো সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে মামলা করেন, যা মিথ্যা প্রমাণিত হয়।
পিবিআইয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই আর্থিক বিরোধের জের ধরেই পাওনাদারদের ফাঁসাতে নতুন করে এই মামলা সাজানো হয়। একই সঙ্গে পারিবারিক দ্বন্দ্বের কারণে বাদীর নানা, মামা, খালা ও অন্যান্য আত্মীয়দেরও আসামির তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়। জমি সংক্রান্ত বিরোধের কারণেও কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে।
তদন্ত শেষে পিবিআই উল্লেখ করেছে, অভিযোগটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটকে ব্যবহার করে ব্যক্তিগত প্রতিশোধ নেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। আসামিদের বিরুদ্ধে কোনো প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ প্রমাণ না পাওয়ায় সবার অব্যাহতি চেয়ে আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে।
আরও পড়ুন:








