বুধবার

২৯ এপ্রিল, ২০২৬ ১৫ বৈশাখ, ১৪৩৩

বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও পৃথক সচিবালয় নিয়ে নতুন বিতর্ক

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৮ এপ্রিল, ২০২৬ ২২:১৬

শেয়ার

বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও পৃথক সচিবালয় নিয়ে নতুন বিতর্ক
ছবি সংগৃহীত

সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ, ২০২৫ বাতিলকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও প্রশাসনিক স্বায়ত্তশাসন নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। চলতি বছরের ৯ এপ্রিল জাতীয় সংসদে ‘সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় (রহিতকরণ) বিল, ২০২৬’ পাসের মাধ্যমে পূর্ববর্তী অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে জারি করা পৃথক সচিবালয় ব্যবস্থা বাতিল করা হয়। সরকারের দাবি, বিচার বিভাগের কাঠামো পুনর্মূল্যায়ন ও প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বিচার বিভাগের পৃথকীকরণের ভিত্তি তৈরি হয় ১৯৯৯ সালের ২ ডিসেম্বর সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের ‘মাসদার হোসেন মামলা’র রায়ের মাধ্যমে। ওই রায়ে অধস্তন আদালতের বিচারকদের নির্বাহী বিভাগ থেকে পৃথক সার্ভিস কাঠামোর আওতায় আনার নির্দেশনা দেওয়া হয়। এর ধারাবাহিকতায় ২০০৭ সালে ফৌজদারি কার্যবিধি সংশোধন এবং জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশন বিধিমালা প্রণয়নের মাধ্যমে বিচার বিভাগকে প্রশাসনিকভাবে পৃথক করার প্রক্রিয়া শুরু হয়।

পরবর্তীতে ২০২৫ সালের ৩০ নভেম্বর অন্তর্বর্তী সরকার ‘সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ, ২০২৫’ জারি করে বিচার বিভাগের জন্য পৃথক প্রশাসনিক কাঠামো গড়ে তোলে। ১১ ডিসেম্বর থেকে ওই সচিবালয়ের কার্যক্রম শুরু হয়। তবে ২০২৬ সালে সংসদে পাস হওয়া নতুন আইনের মাধ্যমে এ কাঠামো বিলুপ্ত করা হয়।

আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান যশোরে এক মতবিনিময় সভায় বলেন, অতীতে বিচার বিভাগের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে এবং কিছু ক্ষেত্রে রাজনৈতিক প্রভাবের অভিযোগ রয়েছে। তাই বর্তমান কাঠামো পর্যালোচনার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে।

এ সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির। তিনি বলেন, পৃথক সচিবালয় বাতিলের মাধ্যমে বিচার বিভাগের প্রশাসনিক স্বাধীনতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং এটি বিচার বিভাগের স্বায়ত্তশাসনের জন্য একটি নেতিবাচক পদক্ষেপ।

অন্যদিকে অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, রাষ্ট্রের তিনটি অঙ্গ—নির্বাহী, আইনসভা ও বিচার বিভাগ—সমন্বিতভাবে কাজ করলে ভারসাম্য বজায় থাকে। তার মতে, বর্তমানে বিচার বিভাগে সরাসরি সরকারি হস্তক্ষেপের কোনো প্রমাণ নেই।

অধ্যাদেশ বাতিলের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে অ্যাডভোকেট সাদ্দাম হোসেনসহ সাতজন আইনজীবী হাইকোর্টে রিট দায়ের করেছেন। আদালত বিষয়টি আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত শুনানি মুলতবি রেখেছে এবং বিদ্যমান প্রশাসনিক কাঠামো পরিবর্তন না করার প্রত্যাশা জানিয়েছে।

এদিকে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. মাহমুদুল হাসান মামুন রাষ্ট্রপতির কাছে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা রক্ষায় সংসদ ভেঙে দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে পৃথক আবেদন করেছেন।

বিচার বিভাগের প্রশাসনিক কাঠামো নিয়ে চলমান এই আইনি ও রাজনৈতিক বিতর্কের প্রেক্ষাপটে বিষয়টি এখনো চূড়ান্তভাবে নিষ্পত্তি হয়নি। সংশ্লিষ্টদের মতে, আদালতের চূড়ান্ত রায় এবং রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের ওপরই বিচার বিভাগের ভবিষ্যৎ প্রশাসনিক কাঠামোর দিকনির্দেশনা নির্ভর করছে।



banner close
banner close