জামালপুরের সরিষাবাড়ীর তারাকান্দিতে অবস্থিত দেশের অন্যতম বৃহৎ দানাদার ইউরিয়া উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান যমুনা সার কারখানা (জেএফসিএল) গ্যাস সংকটের কারণে আবারও অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ হয়ে পড়েছে।
গত ১৬ ফেব্রুয়ারি থেকে কারখানায় উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ থাকায় প্রতিদিন গড়ে প্রায় সাড়ে ৩ কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতি গুনতে হচ্ছে রাষ্ট্রকে।
বছরের অধিকাংশ সময় উৎপাদন বন্ধ থাকায় একদিকে যেমন মূল্যবান যন্ত্রাংশ নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে, অন্যদিকে কাজ হারিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন হাজার হাজার শ্রমিক।
১৯৯১ সালে প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ রাসায়নিক শিল্প সংস্থা (বিসিআইসি) নিয়ন্ত্রিত এই কারখানাটি প্রতিষ্ঠার পর থেকে দৈনিক ১ হাজার ৭০০ টন সার উৎপাদন করে আসছিল।
তবে গ্যাসের চাপ স্বল্পতা ও যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বর্তমানে এর উৎপাদন ক্ষমতা ১ হাজার ২০০ টনে নেমে এসেছে। কারখানায় নিরবচ্ছিন্ন উৎপাদনের জন্য সাধারণত ৪২-৪৩ পিএসআই গ্যাসের চাপের প্রয়োজন হয়।
কারখানা সূত্রে জানা গেছে, বিগত এক বছরের চিত্র অত্যন্ত হতাশাজনক। ২০২৪ সালের ১৫ জানুয়ারি তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ চাপ কমিয়ে দেয়ায় প্রথম উৎপাদন বন্ধ হয়। এরপর ২০২৫ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি দীর্ঘ ১৩ মাস পর গ্যাস সংযোগ ফিরে পেলে পুনরায় উৎপাদন শুরু হয়।
২০২৫ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি চালুর মাত্র তিন দিনের মাথায় অ্যামোনিয়া প্ল্যান্টে ত্রুটি ও গ্যাস সংকটে আবারও বন্ধ হয়ে যায়। এরপর ২০২৬ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি সর্বশেষ গ্যাস সংকটের কারণে কারখানাটি ফের অচল হয়ে পড়ে।
যমুনা সার কারখানা থেকে জামালপুর, শেরপুর, ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইল ও উত্তরবঙ্গের ১৬টি জেলাসহ মোট ২০টিরও বেশি জেলায় সার সরবরাহ করা হয়। আড়াই হাজার ডিলারের মাধ্যমে এই সার কৃষকদের কাছে পৌঁছায়। বর্তমানে উৎপাদন বন্ধ থাকায় চলতি মৌসুমে ইউরিয়া সারের তীব্র সংকট দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয় কৃষকরা।
দীর্ঘদিন কারখানা বন্ধ থাকায় এর ওপর নির্ভরশীল কয়েক হাজার শ্রমিক পরিবার এখন দিশেহারা। শ্রমিক নেতা ও সাধারণ শ্রমিকরা জানান, কারখানা বন্ধ থাকলে তাদের কোনো আয় থাকে না। অনেক ট্রাকচালক ও হেলপার অলস বসে আছেন, নষ্ট হচ্ছে পণ্যবাহী ট্রাকগুলো।
ভুক্তভোগী শ্রমিক সেলিম মিয়া, আব্দুর রাজ্জাক, হরমুজ আলী, আফজাল হোসেনসহ একাধিক শ্রমিক বলেন, আমরা কাজ হারিয়ে পরিবার নিয়ে খেয়ে না খেয়ে দিন পার করছি। দ্রুত এই কারখানাটি চালু না করলে আমাদের বেঁচে থাকাই কঠিন হয়ে পড়বে।
কারখানাটির বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে যমুনা সার কারখানার উপপ্রধান প্রকৌশলী (রসায়ন) মো. ফজলুল হক বলেন, গ্যাস সংকটের কারণেই মূলত ১৬ ফেব্রুয়ারি থেকে উৎপাদন বন্ধ রাখতে হয়েছে। আমরা উৎপাদনের সব প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছি, কিন্তু কবে নাগাদ পর্যাপ্ত গ্যাস পাওয়া যাবে তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। গ্যাস সংযোগ পেলেই আমরা দ্রুত উৎপাদনে ফিরতে পারব।
আরও পড়ুন:








