মঙ্গলবার

২৮ এপ্রিল, ২০২৬ ১৫ বৈশাখ, ১৪৩৩

তালিকাভুক্ত ১৬১১ জঙ্গি সক্রিয়: বিমানবন্দরসহ ১২ কেপিআইতে জোরদার নিরাপত্তা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৮ এপ্রিল, ২০২৬ ০৭:৩৪

শেয়ার

তালিকাভুক্ত ১৬১১ জঙ্গি সক্রিয়: বিমানবন্দরসহ ১২ কেপিআইতে জোরদার নিরাপত্তা
ছবি সংগৃহীত

দেশে গোয়েন্দা তালিকাভুক্ত ১ হাজার ৬১১ জন জঙ্গি পুনরায় সক্রিয় হয়ে ওঠার আশঙ্কায় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করেছে। জঙ্গি হামলার সম্ভাবনা বিবেচনায় দেশের আটটি বিমানবন্দরসহ ১২টি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় (কেপিআই) বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক।

গোয়েন্দা সূত্র জানায়, তালিকাভুক্ত জঙ্গিদের বড় অংশই বিভিন্ন সময়ে জামিনে মুক্ত হয়ে আবার সংগঠিত হওয়ার চেষ্টা করছে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত ১ হাজার ২৩১ জন জঙ্গি জামিনে মুক্তি পায়। এরপর ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৫ সালের জুলাই পর্যন্ত আরও ৩৮০ জন জামিন পেয়েছে। এদের মধ্যে বিভিন্ন নিষিদ্ধ সংগঠনের সদস্য ছাড়াও ২৬৫ জনের সংগঠন-পরিচয় স্পষ্ট নয়।

জামিনপ্রাপ্তদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক আসামির অবস্থান অনিশ্চিত। অন্তত ১১৪ জন জামিন পাওয়ার পর আদালতে আর হাজির হননি, আর ৯৬ জনের অবস্থান সম্পর্কে কোনো তথ্য নেই। একই সময়ে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় অভিযুক্ত অন্তত ৩৭০ জন জঙ্গি এখনো গ্রেপ্তারের বাইরে রয়েছে।

গোয়েন্দা বিশ্লেষণে দেখা গেছে, পলাতকদের মধ্যে বিভিন্ন নিষিদ্ধ সংগঠনের সদস্য রয়েছে, যাদের একটি অংশ শুরু থেকেই গ্রেপ্তার এড়িয়েছে, আবার কেউ জামিনে মুক্ত হয়ে আত্মগোপনে গেছে বা বিচারপ্রক্রিয়ার সময় পালিয়েছে। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর মতে, এরা সম্মিলিতভাবে বড় ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করছে।

র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক উইং কমান্ডার এম জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী বলেন, সন্ত্রাসবিরোধী আইনে পলাতক জঙ্গিদের গ্রেপ্তারে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

গোয়েন্দা কর্মকর্তারা আরও আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, এসব সংগঠনের হাতে এখনো গ্রেনেডসহ ভারী অস্ত্র রয়েছে, যা অতীতে নাশকতায় ব্যবহৃত হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় স্থাপনা ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের লক্ষ্য করে হামলার হুমকিও পাওয়া গেছে।

অপরাধ বিশ্লেষকদের মতে, পলাতক ও জামিনে থাকা জঙ্গিরা পুনরায় সংগঠিত হলে নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে। এতে জনমনে অনিরাপত্তা বাড়ার পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর চাপ সৃষ্টি হবে।

এদিকে, দেশের ১৬টি কারাগারে এখনো ১৬২ জন জঙ্গি বন্দি রয়েছে। তাদের মধ্যে বিচারাধীন, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত, যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্তসহ বিভিন্ন পর্যায়ের আসামি রয়েছে।

টাঙ্গাইলের মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিমিনোলজি অ্যান্ড পুলিশ সায়েন্স বিভাগের অধ্যাপক ড. উমর ফারুক বলেন, অতীতে ব্যাপকভাবে জামিন দেওয়ার ফলে চিহ্নিত জঙ্গিরা পুনরায় সংগঠিত হওয়ার সুযোগ পেয়েছে। সময়মতো কঠোর ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে এটি বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে বলেও তিনি সতর্ক করেন।



banner close
banner close