সোমবার

২৭ এপ্রিল, ২০২৬ ১৪ বৈশাখ, ১৪৩৩

নারায়ণগঞ্জের সাত খুন: আপিলে সাত বছরেও শুনানি শুরু হয়নি, স্বজনদের ক্ষোভ-হতাশা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৭ এপ্রিল, ২০২৬ ০৭:৪৮

শেয়ার

নারায়ণগঞ্জের সাত খুন: আপিলে সাত বছরেও শুনানি শুরু হয়নি, স্বজনদের ক্ষোভ-হতাশা
ছবি সংগৃহীত

নারায়ণগঞ্জের আলোচিত সাত খুনের ঘটনার ১২ বছর পূর্ণ হলেও মামলার আপিল শুনানি এখনো শুরু হয়নি। ২০১৯ সালে আপিল দায়েরের পর সাত বছর অতিক্রান্ত হলেও কার্যকর কোনো অগ্রগতি না হওয়ায় নিহতদের স্বজনদের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা বাড়ছে। দ্রুত আপিল নিষ্পত্তি করে দণ্ড কার্যকরের দাবি জানিয়েছেন তারা।

২০১৪ সালের ২৭ এপ্রিল সংঘটিত এই হত্যাকাণ্ড দেশজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে। জেলা আদালত ও হাইকোর্টে বিচারিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলেও আপিল বিভাগে মামলাটি দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে আছে। ফলে দীর্ঘ এক যুগ পার হলেও রায় কার্যকর হয়নি।

অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল জানান, দণ্ডিত আসামিরা ২০১৯ সালে সুপ্রিম কোর্টে আপিল করেছেন। আপিল বিভাগ গত বছর আসামিপক্ষকে সারসংক্ষেপ জমা দিতে নির্দেশ দেয়। তিনি বলেন, এটি আসামিপক্ষের করা আপিল হওয়ায় তারা সারসংক্ষেপ জমা দিলে রাষ্ট্রপক্ষ দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে। তিনি আরও জানান, রাষ্ট্রের লক্ষ্য হলো দোষীদের শাস্তি নিশ্চিত করা এবং নিরপরাধ কেউ যাতে অন্যায়ের শিকার না হয়, তা নিশ্চিত করা।

২০২৪ সালের ২১ অক্টোবর আপিল বিভাগে মামলাটি কার্যতালিকায় ওঠে। সেদিন আসামিপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে চার সপ্তাহ সময় দিয়ে শুনানি মুলতবি করা হয়।

ঘটনার বিবরণ অনুযায়ী, ২০১৪ সালের ওই দিনে নারায়ণগঞ্জ আদালতে হাজিরা শেষে ফেরার পথে ফতুল্লার লামাপাড়া এলাকা থেকে সাতজনকে অপহরণ করা হয়। তিন দিন পর শীতলক্ষ্যা নদীর শান্তিরচর এলাকা থেকে তাঁদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহতদের মধ্যে ছিলেন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের তৎকালীন প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলাম, আইনজীবী চন্দন সরকারসহ সাতজন।

ঘটনার পর নিহতদের স্বজনরা পৃথক দুটি মামলা দায়ের করেন, যা পরবর্তীতে একত্রে তদন্ত করে পুলিশ। তদন্ত চলাকালে কয়েকজন আসামি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। প্রধান আসামি সাবেক কাউন্সিলর নূর হোসেন ঘটনার পর ভারতে পালিয়ে গেলেও পরে গ্রেপ্তার হয়ে দেশে ফেরত আসেন।

২০১৭ সালের ১৬ জানুয়ারি নারায়ণগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালত রায়ে র‍্যাবের সাবেক ১৬ কর্মকর্তাসহ মোট ২৬ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেন। এছাড়া আরও ৯ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। পরবর্তীতে হাইকোর্টে আপিলের পর ২০১৭ সালের ২২ আগস্ট রায়ে ১৫ জনের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখা হয় এবং ১১ জনের মৃত্যুদণ্ড পরিবর্তন করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। অন্যদের ক্ষেত্রে বিভিন্ন মেয়াদের সাজা বহাল থাকে।

বাদীপক্ষের আইনজীবী সাখাওয়াত হোসেন খান জানান, জনমতের চাপেই বিচারিক প্রক্রিয়া হাইকোর্ট পর্যন্ত দ্রুত এগোয়। তবে আপিল বিভাগে দীর্ঘসূত্রতায় মামলাটি বিলম্বিত হচ্ছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, দ্রুত শুনানি শুরু হয়ে মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হবে।

নিহতদের স্বজনদের দাবি, দীর্ঘ সময় ধরে বিচার প্রক্রিয়া ঝুলে থাকায় তারা মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন। দ্রুত আপিল নিষ্পত্তির মাধ্যমে রায় কার্যকর করা হলে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হবে বলে তারা মনে করেন।



banner close
banner close