গত তিন বছরে দেশে প্রায় ৪০০টি তৈরি পোশাক কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে এবং আরও বহু কারখানা আর্থিক ঝুঁকির মুখে রয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ)। এ পরিস্থিতিতে আসন্ন জাতীয় বাজেটে খাতটির জন্য বিভিন্ন নীতি সহায়তা চেয়েছে সংগঠনটি।
রোববার বিকেলে রাজধানীর জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ভবনে অনুষ্ঠিত প্রাক-বাজেট আলোচনা সভায় বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান এসব তথ্য ও প্রস্তাব তুলে ধরেন। সভায় এনবিআর চেয়ারম্যানসহ বাংলাদেশ নিটওয়্যার প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিকেএমইএ), বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএমএ), বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যাক্সেসরিজ অ্যান্ড প্যাকেজিং ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিজিএপিএমইএ) এবং বাংলাদেশ ইন্ডেন্টিং এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশন (বিজিবিএ)-এর শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় উপস্থাপিত তথ্যে বলা হয়, বৈশ্বিক মন্দা, ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং শুল্কজনিত চাপের কারণে তৈরি পোশাক খাত বর্তমানে উল্লেখযোগ্য চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের ফেব্রুয়ারিতে আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় পোশাক রপ্তানি আয় ৩ দশমিক ৭৩ শতাংশ কমেছে। বিশেষ করে ২০২৫ সালের আগস্ট থেকে রপ্তানি প্রবণতা নিম্নমুখী হওয়ায় অনেক কারখানা পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদন করতে পারছে না, ফলে স্থির ব্যয়ের চাপ বেড়েছে।
বিজিএমইএ জানায়, বর্তমানে শিল্পখাতে ঋণের সুদের হার ১২ থেকে ১৫ শতাংশে পৌঁছেছে। পাশাপাশি জ্বালানি মূল্যবৃদ্ধি ও সরবরাহ অনিশ্চয়তা উৎপাদন ব্যয় বাড়াচ্ছে। ২০১৭ থেকে ২০২৩ সময়কালে গ্যাসের দাম ২৮৬ শতাংশ এবং গত পাঁচ বছরে বিদ্যুতের দাম ৩৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এছাড়া ২০২৪ সালে ন্যূনতম মজুরি ৫৬ শতাংশ বৃদ্ধি এবং একই বছরের ডিসেম্বরে বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট ৯ শতাংশে উন্নীত হওয়ায় ব্যয় আরও বেড়েছে। চট্টগ্রাম বন্দরের ট্যারিফ ২০২৫ সালের ১৫ অক্টোবর ৪১ শতাংশ বৃদ্ধি এবং ২০২৩ সালের জুলাই থেকে ধাপে ধাপে রপ্তানি প্রণোদনা গড়ে প্রায় ৬০ শতাংশ হ্রাস পাওয়ার বিষয়টিও উল্লেখ করা হয়।
এ পরিস্থিতিতে খাতটির প্রতিযোগিতা সক্ষমতা ধরে রাখতে কয়েকটি প্রস্তাব দিয়েছে বিজিএমইএ। প্রস্তাবগুলোর মধ্যে রয়েছে নগদ সহায়তার ওপর ১০ শতাংশ হারে আয়কর কর্তন অব্যাহতি, রপ্তানির বিপরীতে উৎসে কর ১ শতাংশ থেকে কমিয়ে ০ দশমিক ৬৫ শতাংশ নির্ধারণ করে পাঁচ বছরের জন্য বহাল রাখা, সোলার পিভি সিস্টেমসহ বিভিন্ন কাঁচামালে শুল্ক সুবিধা প্রদান এবং উৎপাদন ব্যয় হ্রাসে সহায়ক নীতিগত উদ্যোগ গ্রহণ।
সভায় অংশগ্রহণকারী অন্যান্য শিল্পসংগঠনের প্রতিনিধিরাও খাতটির বর্তমান চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সমন্বিত নীতিসহায়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তবে এ বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানা যায়নি।
আরও পড়ুন:








