রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলা ও কক্সবাজারের স্থানীয় জনগোষ্ঠীর উন্নয়নে বরাদ্দকৃত আন্তর্জাতিক তহবিলের অর্থে প্রতিমন্ত্রীর পিএস ও এপিএসের ইউরোপ সফর নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ফ্রান্স, ইতালি ও তুরস্কে অনুষ্ঠিত এই সফরের ব্যয় বহন করা হয়েছে বিশ্বব্যাংক-অর্থায়িত একটি উন্নয়ন প্রকল্প থেকে, যা নিয়ে স্বচ্ছতা ও প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।
সরকারি নথি অনুযায়ী, ইমার্জেন্সি মাল্টি-সেক্টর রোহিঙ্গা ক্রাইসিস রেসপন্স প্রজেক্টের আওতায় এসব সফর অনুষ্ঠিত হয়। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর বাস্তবায়িত এই প্রকল্পের লক্ষ্য রোহিঙ্গা ও কক্সবাজারের স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জন্য পানি, স্যানিটেশন, স্বাস্থ্যসেবা ও অবকাঠামো উন্নয়ন নিশ্চিত করা।
স্থানীয় সরকার বিভাগের ১ এপ্রিল জারি করা আদেশে প্রতিমন্ত্রীর একান্ত সচিব মো. তাসনিমুজ্জামানকে ৭ থেকে ১৬ এপ্রিল পর্যন্ত ফ্রান্স ও ইতালি সফরে অংশ নিতে মনোনীত করা হয়। সফরের উদ্দেশ্য হিসেবে সরকারি সংস্থা পরিদর্শন, বিশেষজ্ঞ পর্যায়ে মতবিনিময় এবং জ্ঞান আদান-প্রদানের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তার সঙ্গে আরও সাতজন কর্মকর্তা অংশ নেন, যাদের মধ্যে মন্ত্রণালয় ও প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা রয়েছেন।
অন্যদিকে, ২৯ মার্চ জারি করা পৃথক আদেশে প্রতিমন্ত্রীর সহকারী একান্ত সচিব মো. তৌহিদুল ইসলামকে ২৯ মার্চ থেকে ৭ এপ্রিল পর্যন্ত তুরস্কে প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণের জন্য পাঠানো হয়। তার সঙ্গেও সাতজন কর্মকর্তা সফরে অংশ নেন। উভয় সফরের ব্যয় প্রকল্পের বৈদেশিক প্রশিক্ষণ তহবিল থেকে বহন করা হয়েছে।
তুরস্ক সফর সম্পর্কে মো. তৌহিদুল ইসলাম জানান, সেখানে শরণার্থী ব্যবস্থাপনা বিষয়ে প্রশিক্ষণ নেওয়া হয়েছে। সিরীয় শরণার্থীদের ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি পর্যালোচনা করে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে তা প্রয়োগযোগ্য কি না, সে বিষয়ে ধারণা নেওয়াই ছিল সফরের উদ্দেশ্য। তিনি আরও জানান, মন্ত্রণালয় ও প্রকল্প উভয় পক্ষ থেকেই অংশগ্রহণকারীদের নির্বাচন করা হয়েছে।
তবে সংশ্লিষ্ট মহলের একটি অংশ বলছে, প্রকল্পের সঙ্গে সরাসরি সংশ্লিষ্টতা সীমিত থাকা সত্ত্বেও প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের এ ধরনের সফরে অন্তর্ভুক্তি কতটা যৌক্তিক, তা পর্যালোচনা করা দরকার। বিশেষ করে দেশের বর্তমান আর্থিক বাস্তবতায় উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থ ব্যবহারে অগ্রাধিকার নির্ধারণ ও সাশ্রয়ের বিষয়টি গুরুত্ব পাওয়া উচিত।
এ বিষয়ে প্রতিমন্ত্রীর পিএস মো. তাসনিমুজ্জামানের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মো. শহীদুল হাসান এবং এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলী মো. বেলাল হোসেনের সঙ্গেও একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা সাড়া দেননি।
স্থানীয় সরকার বিভাগের এক কর্মকর্তা জানান, মন্ত্রণালয় থেকে নির্দেশনা পাওয়ার পর প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে সরকারি আদেশ জারি করা হয়। প্রশিক্ষণের বিষয়বস্তু ও অংশগ্রহণকারীদের নির্বাচন সংশ্লিষ্ট বিভাগ নির্ধারণ করে থাকে।
উল্লেখ্য, মিয়ানমারে সহিংসতার কারণে বাস্তুচ্যুত বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশে অবস্থান করছে। তাদের সহায়তা ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর ওপর চাপ কমাতে আন্তর্জাতিক সহায়তায় বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে প্রকল্পের অর্থ ব্যবহারে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
আরও পড়ুন:








