শুক্রবার

২৪ এপ্রিল, ২০২৬ ১১ বৈশাখ, ১৪৩৩

নিত্যপণ্যের ঊর্ধ্বগতিতে চাপে নিম্ন ও মধ্যবিত্তরা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৪ এপ্রিল, ২০২৬ ১৩:৫৬

শেয়ার

নিত্যপণ্যের ঊর্ধ্বগতিতে চাপে নিম্ন ও মধ্যবিত্তরা
ছবি সংগৃহীত

জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির প্রভাবে রাজধানীর বাজারে আবারও নিত্যপণ্যের দামে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। চাল, ডাল, তেল থেকে শুরু করে সবজি, মাছ ও মাংস—প্রায় সব পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় নিম্ন ও মধ্যবিত্তের জীবনযাত্রা ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে।

রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, অধিকাংশ সবজির দাম কেজিপ্রতি ১০০ টাকার ওপরে উঠে গেছে। কাঁকরোল বিক্রি হচ্ছে ১৬০-১৭০ টাকা, বেগুন ১২০-১৫০ টাকা, শসা ১১০-১২০ টাকা এবং করলা ১১০ টাকা কেজিতে। বরবটি ১০০ টাকা এবং চিচিঙ্গা ৯০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া টমেটো ৬০-৭০ টাকা, লাউ প্রতিটি ৬০-৭০ টাকা, ঢেঁড়স ৬০ টাকা এবং মিষ্টি কুমড়া ৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। কচুর লতি ৮০ টাকা এবং কাঁচা কলা প্রতি হালি ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির কারণে পরিবহণ ব্যয় বেড়ে গেছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে বাজারদরে। খিলক্ষেত এলাকার খুচরা ব্যবসায়ী ফিরোজ আহম্মদের ভাষ্য, দূরপাল্লার ট্রাকভাড়া প্রতি ট্রিপে ৪ থেকে ৬ হাজার টাকা পর্যন্ত বেড়েছে, কিছু ক্ষেত্রে তা দ্বিগুণও হয়েছে।

মাংস ও মাছের বাজারেও ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা গেছে। সোনালি মুরগি বিক্রি হচ্ছে ৩৫০-৩৬০ টাকা, পোল্ট্রি ১৭০-১৮০ টাকা এবং দেশি মুরগি ৭২০ টাকা কেজিতে। গরুর মাংস ৮০০ টাকা এবং খাসির মাংস ১১৫০-১২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মাছের বাজারে ২২০ টাকার নিচে কোনো মাছ পাওয়া যাচ্ছে না। পাঙ্গাশ ২৩০ টাকা, মাঝারি আকারের রুই ৩৪০-৩৭০ টাকা এবং বড় রুই ৪২০-৪৫০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।

ক্রেতাদের অভিযোগ, বাজারে গিয়ে তারা দিশেহারা হয়ে পড়ছেন। অনেকেই বলছেন, বর্তমান দামে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কেনা তাদের জন্য কষ্টকর হয়ে দাঁড়িয়েছে। উচ্চ মূল্যস্ফীতির এই সময়ে বাজারদর বৃদ্ধিতে সীমিত আয়ের মানুষের ওপর চাপ আরও বাড়ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে কিছু পণ্যের দাম কমলেও দেশের বাজারে তার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না। ডলারের উচ্চ মূল্য, আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি, সরবরাহ ব্যবস্থার দুর্বলতা এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের প্রভাব—সব মিলিয়ে বাজারে এই অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।

সার্বিকভাবে, নিত্যপণ্যের লাগামহীন দামে সাধারণ মানুষের মধ্যে অস্বস্তি বাড়ছে, আর স্বস্তি ফেরাতে কার্যকর বাজার ব্যবস্থাপনা ও নজরদারি জোরদারের দাবি উঠছে।



banner close
banner close