বুধবার

২২ এপ্রিল, ২০২৬ ৯ বৈশাখ, ১৪৩৩

১০০ দিনে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূতের মূল্যায়ন, বাণিজ্য চুক্তি ঐতিহাসিক

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২২ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:৪২

শেয়ার

১০০ দিনে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূতের মূল্যায়ন, বাণিজ্য চুক্তি ঐতিহাসিক
ছবি সংগৃহীত

বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন দায়িত্ব পালনের প্রথম ১০০ দিন পূর্তি উপলক্ষে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক, অর্থনৈতিক সহযোগিতা এবং সাম্প্রতিক বাণিজ্য চুক্তিকে ঐতিহাসিক বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ সম্পর্ক আরও জোরদার হওয়ার আশা প্রকাশ করেন।

রাষ্ট্রদূত জানান, দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে তিনি বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চল পরিদর্শন করেছেন এবং দেশের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে পরিচিত হয়েছেন। পহেলা বৈশাখসহ বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার অভিজ্ঞতাও তুলে ধরেন তিনি। তাঁর মতে, বাংলাদেশের মানুষের আন্তরিকতা ও আতিথেয়তা দুই দেশের সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করতে সহায়ক ভূমিকা রাখছে।

তিনি উল্লেখ করেন, একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক সময়ে তিনি বাংলাদেশে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন, যখন জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। যুক্তরাষ্ট্র প্রথম দেশ হিসেবে ওই নির্বাচনের ফলাফলকে স্বীকৃতি দিয়ে নতুন সরকারকে অভিনন্দন জানিয়েছে বলেও তিনি জানান। একই সঙ্গে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের নীতিমালার আলোকে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নতুন পর্যায়ে উন্নীত করার প্রচেষ্টা চলছে বলে উল্লেখ করেন।

অর্থনৈতিক সহযোগিতা প্রসঙ্গে রাষ্ট্রদূত বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত নতুন বাণিজ্য চুক্তি উভয় দেশের জন্য ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে এবং বাণিজ্য ঘাটতি হ্রাসে ভূমিকা রাখবে। এ লক্ষ্যে তিনি বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মার্কিন ব্যবসায়িক স্বার্থ জোরদারে কাজ করছেন।

অভিবাসন ও নিরাপত্তা সহযোগিতার বিষয়ে তিনি জানান, অবৈধ অভিবাসন ও ভিসা জালিয়াতি প্রতিরোধে দুই দেশ একযোগে কাজ করছে। পাশাপাশি একটি অবাধ ও মুক্ত ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের লক্ষ্যে নিরাপত্তা অংশীদারিত্ব জোরদার করা হচ্ছে। স্বাস্থ্য খাতে নতুন উদ্যোগের মাধ্যমে যক্ষ্মা ও হামের মতো সংক্রামক রোগ মোকাবিলায় সহযোগিতা বাড়ানো হয়েছে।

রোহিঙ্গা সংকট প্রসঙ্গে রাষ্ট্রদূত বলেন, বাংলাদেশে আশ্রিত রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য যুক্তরাষ্ট্র এখনো বৃহত্তম দাতা দেশ হিসেবে সহায়তা প্রদান করছে এবং এই সংকটের টেকসই সমাধানে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কাজ অব্যাহত রয়েছে।

ভিডিও বার্তায় তিনি আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম স্বাধীনতা বার্ষিকী উপলক্ষে বাংলাদেশজুড়ে বিভিন্ন কর্মসূচি পালনের পরিকল্পনা রয়েছে। ভবিষ্যৎ সম্পর্কে আশাবাদ ব্যক্ত করে তিনি বলেন, দুই দেশের পারস্পরিক সহযোগিতা ও অংশীদারিত্ব আগামী দিনে আরও বিস্তৃত হবে।

এই তথ্য রাষ্ট্রদূতের আনুষ্ঠানিক ভিডিও বার্তা থেকে জানা গেছে।



banner close
banner close