মঙ্গলবার

২১ এপ্রিল, ২০২৬ ৮ বৈশাখ, ১৪৩৩

চুক্তিভিত্তিক নিয়োগে বিতর্ক, সরকারের যুক্তি ‘জনস্বার্থ’

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২১ এপ্রিল, ২০২৬ ১৪:৩১

শেয়ার

চুক্তিভিত্তিক নিয়োগে বিতর্ক, সরকারের যুক্তি ‘জনস্বার্থ’
ছবি সংগৃহীত

প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পদে অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ নিয়ে নতুন করে আলোচনা ও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সরকার বলছে, জনস্বার্থ ও প্রশাসনিক প্রয়োজনেই এসব নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও যোগ্যতার বিষয়টি নিশ্চিত না হলে তা প্রশাসনে অসন্তোষ তৈরি করতে পারে।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি সচিব পদমর্যাদায় একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদে অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের এক বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। সর্বশেষ এনজিও বিষয়ক ব্যুরোর মহাপরিচালক, ওয়াকফ প্রশাসক এবং ভূমি আপিল বোর্ডের চেয়ারম্যান পদে তিনজনকে নিয়োগ দিয়ে পৃথক প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। এর আগে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগেও একই ধরনের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

সরকারি কর্মকর্তারা জানান, কোনো গুরুত্বপূর্ণ পদে উপযুক্ত প্রার্থী না থাকলে বা জরুরি পরিস্থিতিতে অভিজ্ঞ কর্মকর্তাদের কাজে লাগাতে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়। এতে প্রশাসনের ধারাবাহিকতা বজায় থাকে এবং অভিজ্ঞতার সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত হয়। তবে তারা স্বীকার করেন, নিয়মিত কর্মকর্তাদের মধ্যে পদোন্নতি বঞ্চনার অভিযোগও এ ধরনের নিয়োগের সঙ্গে যুক্ত হয়ে থাকে।

বিশ্লেষকদের মতে, অতীতে প্রশাসনে দলীয় প্রভাবের কারণে একই ব্যক্তিকে একাধিকবার চুক্তিতে নিয়োগ দেওয়ার নজির রয়েছে। দীর্ঘ সময় একই পদে দায়িত্ব পালনের ঘটনাও ঘটেছে। সরকার পরিবর্তনের পর প্রশাসনে ভারসাম্য আনতে কিছু কর্মকর্তাকে ওএসডি করা এবং অবসরে পাঠানোর পাশাপাশি নতুন করে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়। পাশাপাশি আগের সময়ে বঞ্চিত কর্মকর্তাদের পদোন্নতিও দেওয়া হয়েছে।

আইন অনুযায়ী, সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮-এর ৪৯ ধারার অধীনে অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের পুনরায় চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। এই বিধানের আওতায় রাষ্ট্রপতি জনস্বার্থে এ ধরনের সিদ্ধান্ত নিতে পারেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞদের অভিমত অনুযায়ী, একান্ত প্রয়োজন হলে মেধাবী ও অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের চুক্তিতে নিয়োগ দেওয়া যেতে পারে। তবে নিয়োগের আগে কর্মরত কর্মকর্তাদের মধ্যে যোগ্য কেউ বঞ্চিত হচ্ছেন কি না, তা যাচাই করা জরুরি। অন্যথায় প্রশাসনের ভেতরে অসন্তোষ সৃষ্টি হতে পারে এবং মনোবলে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

এদিকে সংশ্লিষ্টরা জানান, সম্প্রতি স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী হিসেবে এক কর্মকর্তাকে চুক্তিতে নিয়োগ দেওয়া হলেও দুর্নীতির অভিযোগ ওঠায় কয়েক দিনের মধ্যে সেই নিয়োগ বাতিল করা হয়। এ ঘটনায় নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।

বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর একাধিক সচিবকে অপসারণ এবং পরবর্তীতে অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের চুক্তিতে নিয়োগ দেওয়ার ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছে। পাশাপাশি অন্তর্বর্তী সরকারের সময় পদোন্নতি পাওয়া কর্মকর্তারাও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করছেন।

সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে, প্রশাসনের কার্যকারিতা বজায় রাখতে সীমিত পরিসরে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের প্রয়োজন থাকতে পারে। তবে তা যেন দলীয় বিবেচনা বা অনৈতিক প্রভাবের বাইরে থেকে সম্পূর্ণ স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় হয়, সে বিষয়টি নিশ্চিত করা জরুরি। একই সঙ্গে দীর্ঘদিন শূন্য থাকা গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে দ্রুত নিয়োগ দেওয়ার ওপরও গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে।



banner close
banner close