বাংলাদেশের জন্য অনুমোদিত আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল-এর ঋণের পরবর্তী কিস্তি ছাড় নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। কাঠামোগত সংস্কার বাস্তবায়নে সন্তোষজনক অগ্রগতি না থাকায় নির্ধারিত সময়ে অর্থছাড় বিলম্বিত হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
সরকার আলোচনা চলমান বলে জানালেও রাজস্ব আহরণ, ব্যাংকিং খাতে সুশাসন এবং বাজারভিত্তিক বিনিময় হার চালুর মতো গুরুত্বপূর্ণ শর্তে পিছিয়ে থাকার প্রভাব স্পষ্ট। এতে করে জুনে প্রত্যাশিত প্রায় ১ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলারের কিস্তি ছাড় অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে, যা বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ও সামগ্রিক অর্থনীতিতে চাপ বাড়াতে পারে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, কম রাজস্ব আদায় এবং ব্যাংকিং খাতের সংস্কার বাস্তবায়নে ধীরগতিই এই অনিশ্চয়তার মূল কারণ। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল ইতোমধ্যে জানিয়েছে, রাজস্ব ও ব্যাংকিং খাতে প্রত্যাশিত অগ্রগতি না হওয়ায় তারা ঋণচুক্তির পর্যালোচনা ছাড়া নতুন কিস্তি ছাড়ে আগ্রহী নয়।
এ পরিস্থিতিতে অতিরিক্ত শর্তসহ নতুন ঋণ কর্মসূচি নিয়ে আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছে সংস্থাটি। বিদ্যমান চুক্তির আওতায় রাজস্ব সংস্কার, ব্যাংক খাতের সুশাসন, জ্বালানি ভর্তুকি কমানো এবং বাজারভিত্তিক বিনিময় হার কার্যকর করার মতো শর্তগুলো এখনো পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি।
সূত্র জানায়, ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত আইএমএফ- বিশ্বব্যাংক বসন্তকালীন সভা-এর সাইডলাইন বৈঠকগুলোতে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ জানায় আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল। বিশেষ করে কর-জিডিপি অনুপাত ৭-৮ শতাংশে সীমাবদ্ধ থাকা, মুদ্রানীতির কার্যকারিতা, বিনিময় হার ব্যবস্থাপনা এবং ব্যাংকিং খাতের দুর্বলতা নিয়ে তারা অসন্তোষ প্রকাশ করে।
সংস্থাটি কর নেট সম্প্রসারণ, ভ্যাট ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা বৃদ্ধি, আয়কর আদায় বাড়ানো এবং মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কঠোর মুদ্রানীতি অব্যাহত রাখার পরামর্শ দিয়েছে। একই সঙ্গে নীতি সুদহার সমন্বয় এবং ব্যাংকিং খাতে সুশাসন নিশ্চিত করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
জ্বালানি খাতে ভর্তুকি কমিয়ে ধাপে ধাপে বাজারভিত্তিক মূল্য নির্ধারণের সুপারিশও পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি খেলাপি ঋণের উচ্চহার ও পুনঃতফসিলে শিথিলতার সমালোচনা করে বলা হয়েছে, এসব পদক্ষেপ আর্থিক খাতে স্বচ্ছতা দুর্বল করতে পারে।
এদিকে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ওয়াশিংটন সফর শেষে দেশে ফিরে জ্বালানি তেল ও গ্যাসের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্তকে বৈশ্বিক পরিস্থিতির প্রভাব হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন। তবে এর প্রভাব ইতোমধ্যে পরিবহন খরচ ও পণ্যমূল্যে পড়তে শুরু করেছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল-এর সহায়তা বৈদেশিক মুদ্রার চাপ কমাতে সহায়ক হলেও এর পূর্ণ সুবিধা পেতে হলে দ্রুত কাঠামোগত সংস্কার বাস্তবায়ন জরুরি। অন্যথায় ঋণের কিস্তি ছাড় আরও বিলম্বিত হতে পারে এবং অর্থনীতিতে অনিশ্চয়তা বাড়তে পারে।
আরও পড়ুন:








