দেশের বিদ্যুৎ খাতে দীর্ঘদিনের অনিয়ম, উচ্চমূল্যের বিদ্যুৎ কেনা এবং ক্যাপাসিটি চার্জের নামে বিপুল অর্থ ব্যয়ের অভিযোগ ঘিরে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র ও বিভিন্ন প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত দেড় দশকে বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর সঙ্গে করা চুক্তি এবং উৎপাদন সক্ষমতার তুলনায় কম বিদ্যুৎ উৎপাদনের কারণে রাষ্ট্রীয় অর্থের বড় অংশ ব্যয় হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। তবে এসব অভিযোগের যথাযথ তদন্ত ও দায় নির্ধারণ এখনো সম্পূর্ণ হয়নি বলে সংশ্লিষ্ট মহলে আলোচনা রয়েছে।
বিদ্যুৎ খাতে কাঠামোগত অনিয়ম ও আর্থিক অপচয়ের অভিযোগ নিয়ে নতুন করে বিতর্ক দেখা দিয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, রেন্টাল, কুইক রেন্টাল ও আইপিপি বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে ক্যাপাসিটি চার্জসহ উচ্চমূল্যে বিদ্যুৎ কেনার কারণে রাষ্ট্রীয় ব্যয় ব্যাপকভাবে বেড়েছে, যদিও এসব কেন্দ্রের একটি বড় অংশ পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদনে আসেনি।
অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে বিদ্যুৎ খাতের দায়মুক্তি আইন বাতিল এবং টেন্ডারবিহীন বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন বন্ধের উদ্যোগ নেওয়া হলেও পূর্বের চুক্তি ও আর্থিক দায় এখনো বহাল রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়। বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) তথ্য অনুযায়ী, কিছু বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ না নিয়েও ক্যাপাসিটি চার্জ পরিশোধ অব্যাহত ছিল, যা নিয়ে অর্থনৈতিক চাপ তৈরি হয়েছে।
পিডিবির চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. রেজাউল করীম জানিয়েছেন, বিদ্যমান কিছু চুক্তির আইনি বাধ্যবাধকতার কারণে সব চুক্তি বাতিল বা পুনর্গঠন করা সম্ভব হচ্ছে না। তার মতে, কিছু ক্ষেত্রে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক সালিশি জটিলতার ঝুঁকি থাকায় সতর্কভাবে অগ্রসর হতে হচ্ছে।
এদিকে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ জানিয়েছেন, পূর্ববর্তী সময়ের অনিয়ম ও উচ্চমূল্যের বিদ্যুৎ চুক্তি পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার পরিকল্পনা চলছে। তিনি বলেন, ক্যাপাসিটি চার্জের চাপ কমানো এবং খাতটিকে স্বচ্ছ কাঠামোয় আনার বিষয়ে সরকার কাজ করছে। পাশাপাশি বিদেশে অর্থপাচারের অভিযোগ থাকলে তা ফেরত আনার উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
অভিযোগ রয়েছে, বিভিন্ন বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী কোম্পানির সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির কারণে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে বিপুল অর্থ পরিশোধ করতে হয়েছে। এর মধ্যে ক্যাপাসিটি চার্জ ও বিদ্যুৎ বিল মিলিয়ে বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয়ের তথ্য উঠে এসেছে, যা নিয়ে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক মহলে সমালোচনা চলছে।
অর্থনীতিবিদ ও জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, বিদ্যুৎ খাতের দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে হলে চুক্তি পর্যালোচনা, স্বচ্ছ দরপত্র প্রক্রিয়া এবং জবাবদিহি ব্যবস্থা জোরদার করা জরুরি। অন্যথায় খাতটির ওপর আর্থিক চাপ অব্যাহত থাকবে এবং এর প্রভাব সরাসরি ভোক্তা পর্যায়ে পড়বে।
আরও পড়ুন:








