বাংলাদেশ থেকে কর্মী পাঠানোর বিষয়ে ১৮টি দেশের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) বা চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।
সোমবার জাতীয় সংসদের অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে কুড়িগ্রাম-২ আসনের সংসদ সদস্য আতিকুর রহমান মোজাহিদের তারকা চিহ্নিত প্রশ্নের লিখিত জবাবে মন্ত্রী এ তথ্য জানান। প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রীর পক্ষে প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক উত্তর দেন। এ সময় অধিবেশনে ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল সভাপতিত্ব করেন।
মন্ত্রী বলেন, সৌদি আরবের পর অন্যতম বড় শ্রমবাজার মালয়েশিয়া। দেশটির শ্রমবাজার পুনরায় উন্মুক্ত করতে সরকার কাজ করছে। প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগে ৮ থেকে ১১ এপ্রিল মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মাহদী আমিন ও তিনি মালয়েশিয়া সফর করেছেন এবং সেখানকার সরকারের সঙ্গে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। শিগগিরই বাংলাদেশি কর্মী পাঠানোর পথ সুগম হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
তিনি আরও জানান, বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য বন্ধ বা সঙ্কুচিত শ্রমবাজার—মালয়েশিয়া, ওমান, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাহরাইনে কর্মী প্রেরণের লক্ষ্যে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
দক্ষ জনশক্তি তৈরির বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘দেশ-বিদেশে কর্মসংস্থানের জন্য ড্রাইভিং প্রশিক্ষণ প্রদান’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় ১ লাখ ড্রাইভার তৈরির কার্যক্রম চলছে।
তিনি বলেন, সরকারের কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় মধ্যপ্রাচ্যের যেসব দেশে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বাংলাদেশি কর্মীদের ভিসার মেয়াদ শেষ হয়েছে, সেসব ক্ষেত্রে পর্যায়ক্রমে মেয়াদ বাড়ানো হচ্ছে।
এছাড়া সরকারের নির্বাচনি ইশতেহার অনুযায়ী ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনার আওতায় আরও চারটি দেশের সঙ্গে এমওইউ/এমওসি স্বাক্ষরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান মন্ত্রী।
জাপানের সঙ্গে স্বাক্ষরিত চুক্তির আওতায় আগামী পাঁচ বছরে ১ লাখ কর্মী পাঠানোর লক্ষ্যে জাপানি ভাষা শিক্ষায় জোর দেওয়া হচ্ছে। এ লক্ষ্যে মন্ত্রণালয়ে ‘জাপান সেল’ গঠন করা হয়েছে।
মন্ত্রী জানান, ২০২৫ সালে মোট ১১ লাখ ৩২ হাজার ৫১৯ জন বাংলাদেশি বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ পেয়েছেন, যার মধ্যে ৬২ হাজার ৩৫২ জন নারী কর্মী রয়েছেন।
আরও পড়ুন:








