দেশে বিদ্যমান গ্যাসের মজুদ দিয়ে বর্তমান সরবরাহ হার বজায় থাকলে আনুমানিক ১২ বছর চাহিদা মেটানো সম্ভব বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। রোববার বিকেলে জাতীয় সংসদের অধিবেশনে এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য তুলে ধরেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ১৬তম দিনের বৈঠক বিকেল ৩টায় শুরু হয়। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। বগুড়া-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. মোশারফ হোসেন-এর প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, বর্তমানে দেশে উত্তোলনযোগ্য গ্যাসের মোট মজুদ ২৯ দশমিক ৭৪ ট্রিলিয়ন ঘনফুট।
তিনি জানান, এর মধ্যে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত ২২ দশমিক ১১ ট্রিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উত্তোলন করা হয়েছে। ফলে ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি পর্যন্ত অবশিষ্ট মজুদ দাঁড়িয়েছে ৭ দশমিক ৬৩ ট্রিলিয়ন ঘনফুট। নতুন কোনো গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কৃত না হলে এবং দৈনিক গড়ে প্রায় ১ হাজার ৭০০ মিলিয়ন ঘনফুট হারে সরবরাহ অব্যাহত থাকলে এই অবশিষ্ট মজুদের ভিত্তিতে প্রায় ১২ বছর গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব হবে।
গ্যাস অনুসন্ধান কার্যক্রম প্রসঙ্গে মন্ত্রী জানান, পেট্রোবাংলা-র কূপ খনন ও ওয়ার্কওভারের মহাপরিকল্পনার আওতায় মোট ৫০ ও ১০০টি কূপ খননের পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে ২৬টি কূপের খনন ও ওয়ার্কওভার ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে এবং বাকি কাজ বিভিন্ন পর্যায়ে চলছে।
সাইসমিক জরিপের অগ্রগতি তুলে ধরে তিনি বলেন, বাপেক্স-এর মাধ্যমে ব্লক-৭ ও ৯-এ ৩৬০০ কিলোমিটার ২ডি সাইসমিক ডাটা সংগ্রহ শেষ হয়েছে এবং তা প্রক্রিয়াকরণের কাজ চলমান রয়েছে।
এ ছাড়া বিজিএফসিএল-এর মাধ্যমে হবিগঞ্জ, বাখরাবাদ ও মেঘনা এলাকায় ১৪৫০ বর্গকিলোমিটার জুড়ে ৩ডি সাইসমিক ডাটা সংগ্রহের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি বাপেক্স ও এসজিএফএল-এর মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আরও বিস্তৃত ৩ডি সাইসমিক জরিপ পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান তিনি।
আরও পড়ুন:








