সাংবাদিকদের শিক্ষাগত যোগ্যতা নির্ধারণ এবং একটি কেন্দ্রীয় অনলাইন ডাটাবেজ তৈরির পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। জাতীয় সংসদে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন জানিয়েছেন, সাংবাদিকতার মানোন্নয়ন, প্রকৃত সাংবাদিকদের মর্যাদা নিশ্চিত করা এবং ভুয়া সাংবাদিকতা প্রতিরোধে এ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ১৬তম দিনের বৈঠকে বাগেরহাট-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. আব্দুল আলীমের লিখিত প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এ তথ্য তুলে ধরেন। বিকেল ৩টায় ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে অধিবেশন শুরু হয়।
লিখিত প্রশ্নে মো. আব্দুল আলীম বর্তমান ডিজিটাল প্রেক্ষাপটে তথ্যপ্রবাহের চ্যালেঞ্জ, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং ভুয়া সংবাদ প্রতিরোধে সরকারের পরিকল্পনা সম্পর্কে জানতে চান। জবাবে মন্ত্রী বলেন, ভুয়া সংবাদ ও অপপ্রচার মোকাবিলায় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে বহুমুখী কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।
মন্ত্রী জানান, প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ সাংবাদিকদের জন্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ন্যারেটিভ উন্নয়ন, তথ্য-নীতি এবং মাল্টিমিডিয়া সাংবাদিকতা বিষয়ে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চালু করেছে। প্রতি মাসে ঢাকার বাইরে চারটি এবং ঢাকায় দুটি কর্মশালা আয়োজন করা হচ্ছে। পাশাপাশি সাংবাদিক নেতাদের অংশগ্রহণে নিয়মিত কর্মশালাও অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
ফ্যাক্ট-চেকিং কার্যক্রম জোরদার করতে সংশ্লিষ্ট সংস্থা, মূলধারার গণমাধ্যম এবং অন্যান্য অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা ও সেমিনার আয়োজনের প্রস্তুতির কথাও জানান তিনি। দেশের অভ্যন্তরে কর্মরত আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের সঙ্গে যোগাযোগ ও সমন্বয় বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তথ্য অধিদপ্তরের উদ্যোগে গুজব প্রতিরোধে ২২টি ফটোকার্ড এবং ১০টি তথ্যবিবরণী জাতীয় দৈনিক ও অনলাইন মাধ্যমে প্রকাশের জন্য পাঠানো হয়েছে বলে সংসদকে অবহিত করেন মন্ত্রী।
প্রেস কাউন্সিল অ্যাক্ট ১৯৭৪ অনুযায়ী সাংবাদিকতা সংক্রান্ত নীতি-নৈতিকতা লঙ্ঘনের অভিযোগ দায়েরের সুযোগ রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বর্তমানে এ ধরনের আটটি অভিযোগ বিচারাধীন রয়েছে। দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা চর্চা জোরদার করতে বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিল দেশের ৩২টি জেলায় প্রশিক্ষণ কর্মশালা আয়োজন করেছে।
তবে সাংবাদিকদের একটি অংশ মনে করছে, শিক্ষাগত যোগ্যতা নির্ধারণ ও ডাটাবেজ প্রণয়নের ক্ষেত্রে বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া স্বচ্ছ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক হওয়া জরুরি, যাতে কর্মরত সাংবাদিকদের পেশাগত অভিজ্ঞতা যথাযথভাবে মূল্যায়িত হয় এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ক্ষুণ্ন না হয়।
সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, পরিকল্পনাটি বাস্তবায়নের সময় সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মতামত বিবেচনায় নেওয়া হবে এবং সাংবাদিকতার পেশাগত মানোন্নয়ন ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করাই এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।
আরও পড়ুন:








