শনিবার

১৮ এপ্রিল, ২০২৬ ৫ বৈশাখ, ১৪৩৩

ডিএনসিসিতে ৪১০ কোটি টাকা নয়ছয়ের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৮ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:২৩

শেয়ার

ডিএনসিসিতে ৪১০ কোটি টাকা নয়ছয়ের অভিযোগ
ছবি সংগৃহীত

ঢাকার উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) সাবেক প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজের বিরুদ্ধে দায়িত্ব পালনকালে অন্তত ৪১০ কোটি টাকা নয়ছয়ের অভিযোগ উঠেছে। বিভিন্ন নথিপত্র বিশ্লেষণ, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও ভুক্তভোগীদের বক্তব্যে এ তথ্য উঠে এসেছে। অভিযোগ রয়েছে, অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত অর্থের একটি অংশ অন্তর্বর্তী সরকারের প্রভাবশালী মহলের কাছে গেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২০২৫ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব নেওয়া এজাজ চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে অপসারিত হন। দায়িত্ব ছাড়ার সময় তিনি ডিএনসিসির অ্যাকাউন্টে ১ হাজার ২৬০ কোটি টাকার বেশি থাকার দাবি করলেও বর্তমান প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান দায়িত্ব গ্রহণকালে সাধারণ তহবিলে পান মাত্র ৮৫০ কোটি টাকা, যার মধ্যে নগদ ছিল ২৫ কোটি টাকা। এতে প্রায় ৪১০ কোটি টাকার হিসাব নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

ডিএনসিসির একাধিক কর্মকর্তা জানান, এজাজ দায়িত্ব নেওয়ার সময় নগদ অর্থের পরিমাণ ছিল অনেক বেশি। কিন্তু মেয়াদকালে বিভিন্ন অপ্রয়োজনীয় প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়নের মাধ্যমে নগদ অর্থ দ্রুত কমে যায়। তার দাবি করা অর্থের বড় অংশই প্রকৃতপক্ষে স্থাবর সম্পদ, নগদ অর্থ নয়।

নথিপত্র অনুযায়ী, এজাজ দায়িত্বকালীন সময়ে ১০২টি প্রকল্প বাস্তবায়নের দাবি করেন। তবে এসব প্রকল্পের অনেকগুলোর বাস্তব উপকারিতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। ধানমন্ডি ২৭ নম্বর সড়কের জলাবদ্ধতা নিরসন, আগারগাঁও-মিরপুর সংযোগ সড়কসহ বেশ কিছু প্রকল্প কাঙ্ক্ষিত ফল দেয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। ডেঙ্গু প্রতিরোধে উদ্যোগ নেওয়ার দাবি করা হলেও বাস্তবে মশার উপদ্রব কমেনি।

এ ছাড়া ‘গ্রিন অ্যাডভোকেট’ তৈরি, পাবলিক টয়লেট ও পুলিশ বক্স নির্মাণসহ বিভিন্ন প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। ইতোমধ্যে এসব প্রকল্পের কয়েকটি বন্ধ করা হয়েছে এবং বাকিগুলো পর্যালোচনায় রয়েছে।

ডিএনসিসির আর্থিক হিসাব পর্যালোচনায় দেখা যায়, ২০২৩-২৪ অর্থবছর শেষে নগদ ও স্থায়ী আমানত মিলিয়ে তহবিলে ছিল প্রায় ১ হাজার ৭৭৫ কোটি টাকা। দায়িত্ব নেওয়ার পর এজাজ স্বল্প সময়ে প্রায় ১ হাজার ৪৩৯ কোটি টাকা ব্যয় করেন। পরবর্তী সময়েও নতুন প্রকল্পে বিপুল ব্যয়ের ফলে নগদ স্থিতি নেমে আসে সর্বনিম্ন পর্যায়ে।

অভিযোগ রয়েছে, প্রকল্প অনুমোদনের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট ঠিকাদারের কাছ থেকে কমিশন নেওয়া হতো। কাজ পাইয়ে দেওয়ার বিনিময়ে প্রায় ১৬ শতাংশ পর্যন্ত কমিশন আদায়ের তথ্যও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

বনানী কাঁচাবাজারে দোকান বরাদ্দ, গাবতলী পশুর হাট ইজারা এবং বিভিন্ন বাজার ও স্থাপনা ব্যবস্থাপনায়ও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। গাবতলী হাটের ইজারায় সর্বোচ্চ দরদাতাকে বাদ দিয়ে কম দরদাতাকে দায়িত্ব দেওয়ায় ডিএনসিসির রাজস্ব ক্ষতির অভিযোগ রয়েছে।

এজাজের বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ তদন্তে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ইতোমধ্যে অনুসন্ধান শুরু করেছে। চলমান তদন্তের অংশ হিসেবে তার দেশত্যাগেও নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।

বর্তমান প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান বলেন, সাবেক প্রশাসকের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।



banner close
banner close