রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকায় কিশোর গ্যাং ও সন্ত্রাসী গ্রুপের দৌরাত্ম্যে জনজীবন ক্রমেই অনিরাপদ হয়ে উঠছে। চাঁদাবাজি, ছিনতাই, মাদক কারবার ও নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, রাজনৈতিক ছত্রছায়া ও প্রভাবশালী ‘বড় ভাইদের’ আশ্রয়ে এসব অপরাধ দমনে কার্যকর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা যাচ্ছে না।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, মোহাম্মদপুর থানার আওতাধীন প্রায় ২ দশমিক ৮৭ বর্গমাইল এলাকায় ১৬টি সন্ত্রাসী গ্রুপ সক্রিয় রয়েছে। এসব গ্রুপে সদস্য সংখ্যা অন্তত ১০৫ জন। তবে তাদের পেছনে থেকে অন্তত ১৭ জন প্রভাবশালী ব্যক্তি পৃষ্ঠপোষকতা দিয়ে আসছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এদের মধ্যে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা ও তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসীরাও রয়েছেন।
স্থানীয়দের ভাষ্য, আধিপত্য বিস্তার ও মাদক কারবার নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, ছিনতাই ও হত্যার ঘটনা বাড়ছে। সাম্প্রতিক কয়েক দিনে রায়েরবাজার বুদ্ধিজীবী এলাকায় দুইটি নৃশংস হত্যাকাণ্ড নতুন করে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। কিশোর গ্যাং হিসেবে পরিচিত হলেও এসব গ্রুপ এখন সংগঠিত অপরাধচক্রে পরিণত হয়েছে।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, এলাকায় সক্রিয় গ্রুপগুলোর মধ্যে রয়েছে—পাটালি, লেভেল হাই, আনোয়ার, ফরহাদ, আর্মি আলমগীর-নবী, ডাইল্লা, এলেক্স, আকবর, গাংচিল, ল ঠেলা, আশরাফ, স্টার বন্ড, ভাইব্বা ল কিং, ‘চেতালেই ভেজাল’, টক্কর ল এবং ঘুটা দে গ্রুপ। প্রতিটি গ্রুপ নির্দিষ্ট এলাকা নিয়ন্ত্রণ করে চাঁদাবাজি, মাদক বাণিজ্য ও জমি দখলসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িত।
সম্প্রতি রায়েরবাজার এলাকায় ‘এলেক্স গ্রুপ’-এর নেতা ইমন হোসেন ওরফে এলেক্স ইমনকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। স্থানীয়দের দাবি, চাঁদাবাজির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষ গ্রুপের হামলায় তিনি নিহত হন।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা বলছেন, নিয়মিত অভিযান চালিয়ে এসব গ্যাংয়ের সদস্যদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। তবে গ্রেপ্তারের পর অনেকেই জামিনে বের হয়ে আবার অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে, যা নিয়ন্ত্রণে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ঢাকা মহানগর পুলিশ–এর অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) এস এন মো. নজরুল ইসলাম বলেন, অপরাধীদের কোনো রাজনৈতিক পরিচয় নেই। তারা নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য বিভিন্ন সময় ক্ষমতাসীনদের ছায়া নেয়। তবে তাদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে।
অন্যদিকে, র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন–এর কর্মকর্তারা জানান, গত বছরের আগস্টের পর থেকে বিপুল সংখ্যক কিশোর গ্যাং সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হলেও পুনরায় অপরাধে জড়িয়ে পড়ার প্রবণতা উদ্বেগজনক।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, ভয়ের কারণে কেউ প্রকাশ্যে মুখ খুলতে সাহস পান না। ফলে অপরাধীরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে। তাদের মতে, কার্যকর বিচার ও স্থায়ী নজরদারি ছাড়া এই পরিস্থিতির উন্নতি সম্ভব নয়।
আরও পড়ুন:








