কওমি মাদরাসার সর্বোচ্চ স্তর দাওরায়ে হাদিসের (মাস্টার্স সমমান) কেন্দ্রীয় পরীক্ষায় দেশসেরা মেধার স্বাক্ষর রাখা ৫০০ জন তরুণ আলেমকে সংবর্ধনা ও পুরস্কার প্রদান করেছে আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশন।
শুক্রবার (১৭ এপ্রিল)। রাজধানীর আফতাবনগরে অবস্থিত আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশন মিলনায়তনে অত্যন্ত আনন্দঘন পরিবেশে ‘কওমি কৃতি শিক্ষার্থী সংবর্ধনা-২০২৬’ অনুষ্ঠিত হয়। সকাল ৯টা থেকে শুরু হয়ে বিকেল ৫টা পর্যন্ত চলে এ অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠানে কৃতি শিক্ষার্থীদের মাঝে উমরাহ, বই-পুস্তক ও বিশেষ সম্মাননা স্মারকসহ মোট ৪৫ লাখ টাকার পুরস্কার বিতরণ করা হয়।
আল-হাইয়াতুল উলয়া লিল জামিয়াতিল কওমিয়া বাংলাদেশ-এর অধীনে অনুষ্ঠিত কেন্দ্রীয় পরীক্ষায় মেধা তালিকায় স্থানপ্রাপ্ত ১১১ জনের মধ্য থেকে ১০২ জন ও মুমতাজ (জিপিএ-৫ সমমান) অর্জনকারী ১৫৭৫ জন থেকে ১১১৯ জন আবেদন করেন। সেখান থেকে প্রাপ্ত নম্বরের ভিত্তিতে সেরা ৫০০ জনকে এই সম্মাননা প্রদান করা হয়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শায়খ আহমাদুল্লাহ। তিনি তার বক্তব্যে এই আয়োজনের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে বলেন, ‘আমাদের দেশে সাধারণ ধারার কৃতি শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করতে বিভিন্ন ব্যাংক, এনজিও ও বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান নানা আয়োজন করে থাকে। কিন্তু জাতীয় পর্যায়ে কওমি মাদরাসার মেধাবীদের যথাযথ স্বীকৃতি ও গাইডলাইনের তীব্র অভাব। সেই সাথে এ ধরনের উৎসাহমূলক আয়োজনও অপ্রতুল। এই অভাব পূরণে তরুণ আলেমদের গবেষণামুখী ও আত্মবিশ্বাসী করে গড়ে তুলতে এবং যথাযথ পথনির্দেশ প্রদান করতেই আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের এই ক্ষুদ্র আয়োজন। আমরা চাই এই মেধাবীরা যেন তাদের সম্ভাবনাকে সর্বোচ্চ কাজে লাগাতে পারেন এবং সময়ের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দক্ষ হয়ে গড়ে ওঠেন।’
অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী সাব্বির আহমাদ। তিনি আয়োজনে উপস্থিত সকল অতিথি, ওলামায়ে কেরাম ও কৃতি শিক্ষার্থীদের আন্তরিক শুভেচ্ছা জানান এবং এ ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশের মহাসচিব মাওলানা মাহফুজুল হক। তিনি বলেন, ‘কওমি শিক্ষার্থীদের জন্য এ ধরনের আয়োজন বিরল। অথচ আদর্শ সমাজ গঠনে কওমি ছাত্রদের অবদান অনস্বীকার্য।’
আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি বলেন, আমি আশা করছি, এই উদ্যোগ তরুণ আলেমদের উচ্চতর শিক্ষা ও গবেষণায় নতুন করে উদ্দীপনা জোগাবে ইনশাল্লাহ।
এছাড়া অনুষ্ঠানে আরো বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রবীণ আলেম, মাদরাসা দারুর রাশাদের শিক্ষাসচিব মাওলানা লিয়াকত আলী, জামিয়াতুল উলুমিল ইসলামিয়ার শায়খুল হাদিস মাওলানা আবুল বাশার সাইফুল ইসলাম, হাটহাজারী মাদরাসার উচ্চতর হাদিস বিভাগের প্রধান ড. নুরুল আবসার আজহারী, প্রবীণ ইসলামিক স্কলার, গবেষক ও ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় কুষ্টিয়ার সাবেক অধ্যাপক ডক্টর এ.বি.এম হিজবুল্লাহ, লেখক ও মিডিয়া ব্যক্তিত্ব শরীফ মুহাম্মদ ও বিশিষ্ট ইসলামি অর্থনীতিবিদ ড. ইউসুফ সুলতান, অন্যরকম গ্রুপের চেয়ারম্যান মাহমুদুল হাসান সোহাগ ও আদ-দ্বীন হাসপাতালের নির্বাহী পরিচালক শেখ মহিউদ্দীনসহ আরো বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও ওলামায়ে কেরাম।
পুরস্কার হিসেবে দেওয়া হয় সেরা ৪ জনকে পবিত্র উমরাহ পালনের সুযোগ ও ১০ হাজার টাকা সমমূল্যের বই-পুস্তক কেনার ভাউচার। এছাড়া অন্যান্যদের মধ্যে মেধাক্রম অনুযায়ী ১ লাখ টাকা সমমূল্যের বই-পুস্তক থেকে শুরু করে বিভিন্ন অংকের ভাউচার ও সম্মাননা ক্রেস্ট দেওয়া হয়। পাশাপাশি ‘আদ-দ্বীন’ হাসপাতালের বিশেষ ‘ডিসকাউন্ট কার্ড’ প্রদান করা হয়।
আরও পড়ুন:








