প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, একটি সমৃদ্ধ ও শক্তিশালী রাষ্ট্র গঠনের জন্য জাতীয় ঐক্যের কোনো বিকল্প নেই। বিভিন্ন ইস্যুতে রাজনৈতিক বা মতাদর্শিক বিতর্ক ও বিরোধ থাকতে পারে, কিন্তু সেই বিরোধ যেন কোনোভাবেই ব্যক্তিগত বা রাষ্ট্রীয় শত্রুতায় রূপ না নেয়, সে বিষয়ে দেশবাসীকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার রাজধানীর এক অনুষ্ঠানে দেশের সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মাননা ‘স্বাধীনতা পদক ২০২৬’ প্রদানকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন ক্ষেত্রে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ বিজয়ীদের হাতে স্বাধীনতা পদক তুলে দেন। পদকপ্রাপ্তদের অভিনন্দন জানিয়ে তিনি বলেন, "আপনাদের এই অনন্য সাধারণ অবদান বাংলাদেশকে আরও সমৃদ্ধ করবে। আপনাদের এই সাফল্য কেবল দেশের ভেতরেই নয়, আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও সমাদৃত হবে এবং আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য এটি প্রেরণার অবিরাম উৎস হয়ে থাকবে।"
দেশের স্বাধীনতার গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস স্মরণ করে সরকারপ্রধান বলেন, অসংখ্য প্রাণের বিনিময়ে অর্জিত বাংলাদেশ আজ স্বাধীনতার ৫৫ বছর অতিক্রম করেছে। এই দীর্ঘ পথচলায় যেমন অনেক অর্জন রয়েছে, তেমনি এখনও কিছু চ্যালেঞ্জ এবং স্বার্থান্বেষী চক্র দেশের অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত করতে সুযোগের অপেক্ষায় রয়েছে। তিনি দেশপ্রেমিক জনতাকে এসকল ষড়যন্ত্র মোকাবিলায় সজাগ থাকার নির্দেশ দেন।
বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বর্তমান সরকারের প্রধান লক্ষ্যগুলো পুনর্ব্যক্ত করেন। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি বর্তমান সরকারের প্রধান লক্ষ্য উল্লেখ করে পাশাপাশি শিক্ষাব্যবস্থাকে আধুনিক ও কর্মমুখী করার উদ্যোগ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে বলেও জানান তিনি।
দেশের অর্ধেক জনগোষ্ঠী নারীর সুরক্ষা নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, "নারীদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা ছাড়া টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়।"এছাড়া বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকটের প্রভাব নিয়ে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধি পাওয়া সত্ত্বেও সাধারণ জনগণের কষ্টের কথা চিন্তা করে সরকার এখনও দাম বাড়ায়নি। বিশাল অংকের ভর্তুকি দিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা চলছে। এই সংকট মোকাবিলায় তিনি দেশবাসীকে অপ্রয়োজনীয় ও অযথা ব্যয় পরিহার করার জন্য উদাত্ত আহ্বান জানান।
আরও পড়ুন:








