বৃহস্পতিবার

১৬ এপ্রিল, ২০২৬ ৩ বৈশাখ, ১৪৩৩

ভর্তুকির চাপ কমাতে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর চিন্তা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৬ এপ্রিল, ২০২৬ ০৭:৪৯

শেয়ার

ভর্তুকির চাপ কমাতে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর চিন্তা
ছবি এআই জেনারেট

আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি, মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা এবং আমদানি ব্যয়ের ঊর্ধ্বগতির প্রেক্ষাপটে বিদ্যুৎ উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় ভর্তুকির চাপ সামাল দিতে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে সরকার। তবে বিষয়টি চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে আরও পর্যালোচনার জন্য একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে।

সরকারি হিসাব অনুযায়ী, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বিদ্যুৎ খাতে ভর্তুকির পরিমাণ ৫৬ হাজার ৪৭৫ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে। উৎপাদন ব্যয় বাড়লেও গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের মূল্য তুলনামূলক কম থাকায় এ ঘাটতি তৈরি হয়েছে, যা সরকারকে ভর্তুকির মাধ্যমে বহন করতে হচ্ছে।

এ পরিস্থিতিতে বিদ্যুতের পাইকারি ও খুচরা—দুই পর্যায়েই মূল্য সমন্বয়ের প্রস্তাব মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করা হয়। তবে তাৎক্ষণিক অনুমোদন না দিয়ে বিষয়টি গভীরভাবে বিশ্লেষণের জন্য অর্থমন্ত্রীকে আহ্বায়ক করে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিতে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদমন্ত্রী, বাণিজ্যমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট বিভাগের শীর্ষ কর্মকর্তারা রয়েছেন।

বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্রে জানা যায়, আন্তর্জাতিক বাজারে এলএনজি, জ্বালানি তেল ও কয়লার দাম বাড়ার কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক সংঘাত পরিস্থিতির কারণে আমদানি ব্যয় আরও বৃদ্ধি পেয়েছে, যা ভর্তুকির পরিমাণ বাড়িয়ে দিচ্ছে।

প্রস্তাব অনুযায়ী, বিদ্যুতের পাইকারি দাম প্রতি ইউনিট ৫০ পয়সা থেকে ১ টাকা ২০ পয়সা পর্যন্ত বাড়ানোর তিনটি বিকল্প বিবেচনায় রয়েছে। এতে ভর্তুকি ৫ হাজার ২৪৪ কোটি টাকা থেকে সর্বোচ্চ ১২ হাজার ৫৮৬ কোটি টাকা পর্যন্ত কমানো সম্ভব বলে মনে করছে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি)।

খুচরা পর্যায়ে মূল্যবৃদ্ধির ক্ষেত্রে নিম্নআয়ের ‘লাইফলাইন’ গ্রাহকদের (০–৭৫ ইউনিট) জন্য দাম অপরিবর্তিত রাখার প্রস্তাব রয়েছে। তবে বেশি বিদ্যুৎ ব্যবহারকারী আবাসিক, বাণিজ্যিক ও শিল্প গ্রাহকদের ক্ষেত্রে ইউনিটপ্রতি ৭০ পয়সা থেকে ১ টাকা ৮০ পয়সা পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে।

বিদ্যুৎ বিভাগের যুক্তিতে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বিদ্যুতের দাম সমন্বয় করা জরুরি। একইসঙ্গে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) বিদ্যুৎ খাতে ভর্তুকি কমানো এবং দক্ষতা বাড়ানোর জন্য মূল্য সমন্বয়ের সুপারিশ করেছে।

তবে সরকার একদিকে ভর্তুকির চাপ কমাতে চায়, অন্যদিকে জনঅসন্তোষ এড়িয়ে অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ভারসাম্য বজায় রাখার বিষয়টিও গুরুত্ব দিচ্ছে। ফলে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে পারে উচ্চপর্যায়ের কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে, যা অর্থমন্ত্রী দেশে ফেরার পর বৈঠকের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে।



banner close
banner close