আসন্ন ঢাকা আইনজীবী সমিতির (ঢাকা বার) নির্বাচনে অংশ না নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে জামায়াতে ইসলামি সমর্থিত সবুজ প্যানেল। নির্বাচনকে ‘পাতানো’ ও ‘অস্বচ্ছ’ উল্লেখ করে এই সিদ্ধান্তের কথা জানান সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির।
বুধবার (১৫ এপ্রিল) ঢাকা বার ভবনের সামনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে ষড়যন্ত্র, অনিয়ম ও পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুলে ধরেন। শিশির মনির দাবি করেন, নির্বাচন কমিশন গঠনের ক্ষেত্রেই ভারসাম্য রক্ষা করা হয়নি এবং একটি পক্ষের আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।
তিনি বলেন, প্রচলিত রীতি অনুযায়ী নির্বাচন কমিশনে দুই পক্ষ থেকে সমান সংখ্যক সদস্য থাকার কথা থাকলেও বাস্তবে তা মানা হয়নি। ইতোমধ্যে একটি প্যানেল থেকে সাতজন সদস্যের নাম ঘোষণা করা হয়েছে, যা নির্বাচনকে প্রভাবিত করার ইঙ্গিত দেয়। এ বিষয়ে তারা লিখিতভাবে প্রতিবাদ ও বিকল্প প্রস্তাব জমা দিয়েছেন বলেও জানান তিনি।
শিশির মনির আরও অভিযোগ করেন, অতীতেও ভোটগ্রহণে অনিয়ম হয়েছে এবং ব্যালট বাক্স ছিনতাই করে বাইরে নিয়ে গিয়ে গণনার মতো ঘটনা ঘটেছে। এ কারণে তিনি ডিজিটাল পদ্ধতিতে ভোট গণনার দাবি জানান এবং একটি নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের আহ্বান জানান।
তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যদি নির্বাচন কমিশন একপাক্ষিকভাবে গঠন করা হয় এবং আগেভাগেই ফল নির্ধারণের চেষ্টা করা হয়, তাহলে আইনজীবীরা তা মেনে নেবেন না। এ ধরনের পরিস্থিতিতে সম্মিলিতভাবে প্রতিরোধ গড়ে তোলার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও বলেন, নির্বাচন সুষ্ঠু ও স্বচ্ছভাবে আয়োজন করা হলে ফলাফল যাই হোক না কেন তা মেনে নেওয়া হবে। তবে ‘ইঞ্জিনিয়ারিং করা’ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে না সবুজ প্যানেল।
উল্লেখ্য, ঢাকা আইনজীবী সমিতির কার্যনির্বাহী কমিটির নির্বাচন আগামী ২৯ ও ৩০ এপ্রিল সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। গত ২৯ মার্চ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়। এবারের নির্বাচনে প্রায় ৩০ হাজার আইনজীবী ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। সভাপতি, সম্পাদকসহ মোট ২৩টি পদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
প্রসঙ্গত, ২০২৪-২৫ মেয়াদে সর্বশেষ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সমর্থিত আইনজীবীরা অধিকাংশ পদে জয়ী হন। তবে গত ৫ আগস্ট সরকার পরিবর্তনের পর সৃষ্ট পরিস্থিতিতে সমিতির কার্যক্রমে স্থবিরতা দেখা দিলে পরবর্তীতে অ্যাডহক কমিটি গঠন করা হয়, যা বর্তমানে দায়িত্ব পালন করছে।
আরও পড়ুন:








