ঢাকায় ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি হত্যা মামলায় গ্রেফতার অস্ত্র বিক্রেতা মো. মাজেদুল হক হেলালের ৭ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ সিআইডি।
বুধবার ঢাকার আদালতে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও সিআইডির সহকারী পুলিশ সুপার আবদুল কাদির ভূঞা এ রিমান্ড আবেদন করেন। ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলামের আদালতে এ বিষয়ে শুনানি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গ্রেফতার হেলাল চট্টগ্রামের একটি অস্ত্রের দোকানের মালিক। তাকে চট্টগ্রাম থেকে আটক করা হয় এবং জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডে নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করে আদালতে আবেদন করা হয়েছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১২ ডিসেম্বর ঢাকার মতিঝিলে জুমার নামাজ শেষে নির্বাচনী প্রচারণা শেষ করে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে যাওয়ার পথে হামলার শিকার হন শরিফ ওসমান হাদি। ওইদিন দুপুর আনুমানিক ২টা ২০ মিনিটে পল্টন মডেল থানাধীন বক্স কালভার্ট এলাকায় পৌঁছালে মোটরসাইকেলযোগে আসা দুর্বৃত্তরা তার বহনকারী অটোরিকশাকে লক্ষ্য করে গুলি চালায় এবং দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখান থেকে ১৫ ডিসেম্বর তাকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর তার মৃত্যু হয়।
ঘটনার পরদিন ১৪ ডিসেম্বর পল্টন মডেল থানায় ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন। প্রাথমিকভাবে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে মামলা দায়ের হলেও পরবর্তীতে হাদির মৃত্যু হওয়ায় তা হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হয়।
মামলায় দণ্ডবিধির একাধিক ধারায় অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র, হত্যাচেষ্টা, বিপজ্জনক অস্ত্র ব্যবহার করে গুরুতর আঘাত এবং দুষ্কর্মে সহায়তার অভিযোগ আনা হয়েছে। তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মামলার মূল রহস্য উদঘাটন এবং জড়িতদের শনাক্ত করতে হেলালকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ জরুরি।
আরও পড়ুন:








