বুধবার

১৫ এপ্রিল, ২০২৬ ১ বৈশাখ, ১৪৩৩

চট্টগ্রাম বন্দরে জেট ফুয়েলবাহী জাহাজ, আসছে আরও দুই ডিজেল ট্যাংকার

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৪ এপ্রিল, ২০২৬ ০৮:০০

শেয়ার

চট্টগ্রাম বন্দরে জেট ফুয়েলবাহী জাহাজ, আসছে আরও দুই ডিজেল ট্যাংকার
ছবি সংগৃহীত

সিঙ্গাপুর থেকে ১২ হাজার টন উড়োজাহাজের জ্বালানি জেট ফুয়েল নিয়ে একটি জাহাজ মঙ্গলবার সকাল ৮টার দিকে চট্টগ্রাম বন্দরের জেটিতে নোঙর করেছে। একই দিনে রাতের মধ্যে আরও দুটি ডিজেলবাহী জাহাজ বন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে, যা দেশের জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতিতে স্বস্তি যোগ করবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন বিপিসি সূত্রে জানা গেছে, এমটি গ্রেট প্রিন্সেস নামের জাহাজটি ইন্ডিয়ান অয়েল করপোরেশন লিমিটেডের সরবরাহ করা জেট ফুয়েল নিয়ে চট্টগ্রামে পৌঁছায়। এছাড়া রাতের দিকে এমটি টর্ম দামিনি ও এমটি লুসিয়া সলিস নামের দুটি জাহাজে যথাক্রমে প্রায় ৩৩ হাজার ও ৩৫ হাজার টন ডিজেল আসার কথা রয়েছে। এই দুই চালানের সরবরাহকারী ইউনিপ্যাক সিঙ্গাপুর পিটিই লিমিটেড এবং ভিটল এশিয়া।

বিপিসির তথ্য অনুযায়ী, ১২ এপ্রিল পর্যন্ত দেশে জেট ফুয়েলের মজুত ছিল প্রায় ২২ হাজার টন, যা দিয়ে প্রায় দুই সপ্তাহের চাহিদা মেটানো সম্ভব। নতুন চালান যুক্ত হওয়ায় মজুত কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে। চলতি মাসের প্রথম ১২ দিনে জেট ফুয়েল বিক্রি হয়েছে ২১ হাজার টন, দৈনিক গড় ১ হাজার ৭৫৮ টন, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় সামান্য বেশি।

দেশে মোট জ্বালানি ব্যবহারের প্রায় ৬৩ শতাংশই ডিজেলনির্ভর। পরিবহন, কৃষি, শিল্প ও বিদ্যুৎ খাতে এর চাহিদা বেশি। বিপিসির হিসাবে, এপ্রিল মাসে ডিজেলের মোট চাহিদা প্রায় ৪ লাখ টন। ১ থেকে ১২ এপ্রিল পর্যন্ত বিক্রি হয়েছে ১ লাখ ৩৩ হাজার টন ডিজেল, দৈনিক গড় ১১ হাজার ১৩৮ টন।

এর আগে ৩ এপ্রিল দুই জাহাজে মোট ৬১ হাজার টন ডিজেল আমদানি করা হয়। তবুও চাহিদার চাপ পুরোপুরি কমেনি। ১২ এপ্রিল পর্যন্ত দেশে সরবরাহযোগ্য ডিজেলের মজুত ছিল প্রায় ১ লাখ ১৯ হাজার টন, যা দিয়ে প্রায় ১০ দিনের চাহিদা পূরণ সম্ভব। নতুন দুটি চালান যুক্ত হলে এই সক্ষমতা আরও কয়েক দিন বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বিপিসির চেয়ারম্যান মো. রেজানুর রহমান জানান, নির্ধারিত সরবরাহের পাশাপাশি বিকল্প উৎস থেকেও জ্বালানি আমদানির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তার মতে, চলতি মাসে জ্বালানি তেলের সরবরাহে বড় ধরনের কোনো সংকটের আশঙ্কা আপাতত নেই।



banner close
banner close