সোমবার

১৩ এপ্রিল, ২০২৬ ৩০ চৈত্র, ১৪৩২

ব্যাংক আইনে ‘লুটেরাদের’ পুনর্বাসন আত্মঘাতী: টিআইবি

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৩ এপ্রিল, ২০২৬ ১৮:২২

শেয়ার

ব্যাংক আইনে ‘লুটেরাদের’ পুনর্বাসন আত্মঘাতী: টিআইবি
ছবি সংগৃহীত

ব্যাংক রেজল্যুশন আইন, ২০২৬ সংশোধনের মাধ্যমে দুর্বল ব্যাংকের আগের শেয়ারধারীদের জবাবদিহি ছাড়াই পুনরায় মালিকানায় ফেরার সুযোগ দেওয়াকে ‘দুর্নীতি ও লুটপাটে সহায়ক’ এবং ‘আত্মঘাতী’ সিদ্ধান্ত হিসেবে অভিহিত করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।

সোমবার এক বিবৃতিতে সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, সংশোধিত আইনের ১৮(ক) ধারার মাধ্যমে দায়ী ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে বিচারের আওতায় আনার পরিবর্তে দায়মুক্তির সুযোগ দেওয়া হয়েছে। এতে ব্যাংক খাতে দীর্ঘদিনের অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা ও সুশাসনের ঘাটতি দূর হওয়ার বদলে বিচারহীনতার সংস্কৃতি আরও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পাবে।

তিনি আরও বলেন, সরকারের যুক্তি যাই থাকুক না কেন, এই সিদ্ধান্ত বাস্তবে ব্যাংক খাতের দুর্নীতিবাজদের পুরস্কৃত করার শামিল। এর মাধ্যমে ‘উইনার টেইকস অল’ ধাঁচে নীতি দখলের প্রবণতা অব্যাহত থাকছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

টিআইবি বিবৃতিতে সংশয় প্রকাশ করে জানায়, সংকটে থাকা ব্যাংকগুলোর আগের মালিকরা কীভাবে আবার একই প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণ নেবেন, যখন তারা নির্ধারিত অর্থের মাত্র সাড়ে সাত শতাংশ জমা দিয়ে বাকি অর্থ দুই বছরের মধ্যে পরিশোধের সুযোগ পাচ্ছেন। একই সঙ্গে নতুন মূলধন জোগান, পুরোনো দায় পরিশোধ ও ক্ষতিপূরণের মতো শর্ত বাস্তবে কতটা পূরণ হবে, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে সংস্থাটি।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ায় দায়ীদের জবাবদিহি নিশ্চিত না করে ঢালাওভাবে মালিকানা ফিরিয়ে দিলে ব্যাংক খাতে কাঙ্ক্ষিত গুণগত পরিবর্তন আসবে না। বরং এতে আর্থিক খাতে অস্থিতিশীলতা বাড়তে পারে এবং শেষ পর্যন্ত এর চাপ বহন করতে হবে সাধারণ জনগণকেই।

এই প্রেক্ষাপটে আইনটি পুনর্বিবেচনার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে টিআইবি।



banner close
banner close