সোমবার

১৩ এপ্রিল, ২০২৬ ৩০ চৈত্র, ১৪৩২

বিনিয়োগের পরও রেলে সংকট, আয় কমছে শত কোটি টাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৩ এপ্রিল, ২০২৬ ১০:৪২

শেয়ার

বিনিয়োগের পরও রেলে সংকট, আয় কমছে শত কোটি টাকা
ছবি এআই জেনারেট

বিপুল বিনিয়োগের পরও ইঞ্জিন ও কোচ সংকটে কার্যত অচলাবস্থার মুখে পড়েছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। যাত্রী ও পণ্য পরিবহনে চাহিদা পূরণে ব্যর্থতার পাশাপাশি সংস্থাটি বছরে অন্তত ১০০ কোটি টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

রেলওয়ের তথ্য অনুযায়ী, ইঞ্জিন সংকটের কারণে কনটেইনার পরিবহন কমে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৫০ হাজার টিইইউএসে, এতে আয়ের ঘাটতি প্রায় ৫০ কোটি টাকা। তেল, খাদ্যসহ অন্যান্য পণ্য পরিবহনে ক্ষতি হয়েছে প্রায় ২৫ কোটি টাকা। এছাড়া মেইল ও লোকাল ট্রেন বন্ধ থাকায় যাত্রী ও লাগেজ পরিবহন থেকে আয় কমেছে আরও প্রায় ৩০ কোটি টাকা।

খাত সংশ্লিষ্টদের মতে, গত এক দশকে রেল খাতে প্রায় এক লাখ কোটি টাকার বেশি বিনিয়োগ হলেও পুরনো ও জরাজীর্ণ লোকোমোটিভ ও কোচ দিয়েই ট্রেন পরিচালনা করতে হচ্ছে। প্রতিদিন গড়ে ৭ থেকে ৮টি ইঞ্জিন বিকল হয়ে পড়ছে। প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশের অভাব ও দীর্ঘসূত্রতার কারণে অনেক ইঞ্জিন দীর্ঘদিন অচল অবস্থায় পড়ে থাকে। রক্ষণাবেক্ষণ কারখানাগুলোতেও দক্ষ জনবল ও আধুনিক যন্ত্রপাতির ঘাটতি রয়েছে।

বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক আফজাল হোসেন জানান, ইঞ্জিন ও কোচ সংকটের কারণে ট্রেন চলাচলে বিলম্ব এবং মাঝপথে বিকল হওয়ার ঘটনা ঘটছে। পরিস্থিতি উন্নয়নে নতুন লোকোমোটিভ ও কোচ সংগ্রহ এবং রক্ষণাবেক্ষণ খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধির প্রয়োজন রয়েছে।

রেল সূত্রে জানা যায়, দেশে বর্তমানে মোট ৩ হাজার ৪২৮ দশমিক ৯ কিলোমিটার রেলপথ রয়েছে। এর মধ্যে মিটারগেজ ১ হাজার ৫৯১ দশমিক ৪৩ কিলোমিটার, ব্রডগেজ ১ হাজার ৬৬ দশমিক ৬০ কিলোমিটার এবং ডুয়ালগেজ ৭৭০ দশমিক ০৬ কিলোমিটার। অধিকাংশ আন্তঃনগর ট্রেন ১০ থেকে ১৪টি কোচ নিয়ে চলাচল করায় সক্ষমতার পূর্ণ ব্যবহার হচ্ছে না। সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, প্রতিটি আন্তঃনগর ট্রেনে ১৮ থেকে ২০টি কোচ যুক্ত করা গেলে অতিরিক্ত জ্বালানি ব্যয় ছাড়াই আয় বাড়ানো সম্ভব।

এদিকে যাত্রীসেবা বাড়াতে ভারত থেকে ২০০টি ব্রডগেজ কোচ সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা ২০২৬ সালের জুন থেকে ২০২৭ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে বহরে যুক্ত হওয়ার কথা রয়েছে। পাশাপাশি আরও ২৬০টি ব্রডগেজ কোচ, ৪৬টি ব্রডগেজ এবং ৫০টি মিটারগেজ লোকোমোটিভ সংগ্রহের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

বর্তমানে রেলওয়ের মোট ৩০০টি লোকোমোটিভের মধ্যে ১০৭টির মেয়াদ অতিক্রান্ত হয়েছে এবং ৬৩টির বয়স ৪০ বছরের বেশি। এসব পুরনো ইঞ্জিনের রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় বেশি হলেও প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশের অধিকাংশই বিদেশ থেকে সংগ্রহ করতে হয়, ফলে মেরামত কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকদের মতে, পরিচালন ব্যয় প্রতিবছর প্রায় ১০ শতাংশ হারে বাড়লেও আয়ের প্রবৃদ্ধি ৫ শতাংশের কম। এ অবস্থায় পরিকল্পিত বিনিয়োগ, দক্ষ ব্যবস্থাপনা এবং রক্ষণাবেক্ষণে জোর না দিলে রেল খাতের বর্তমান সংকট দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।



banner close
banner close